সীতাপতি { লেখাটি দাশুর ডাইরি থেকে ও প্রতিলিপি (বাংলা) পত্রিকায় প্রকাশিত।}

SRINAGAR (3)সকালবেলা মোক্ষদাদেবী সুদৃশ্য ট্রেতে ব্ল্যাক কফি, দুটো ক্রীমক্র্যাকার বিস্কুট, একটা বাংলা ও একটা ইংরাজী খবরের কাগজ নিয়ে স্বামী ভূতনাথ চোংদারের বিলাশবহুল শয়নকক্ষে এলেন। এ.সি. মেশিন বন্ধ করে, জানালা খুলে দিয়ে, স্বামীকে ঘুম থেকে ডেকে তুললেন।

ধবধবে সাদা নরম বিছানা ছেড়ে, ভূতনাথবাবু পাশের ঝকঝকে মারবেল মোড়া বাথরুম্ থেকে মুখে চোখে জল দিয়ে, কফি ও খবরের কাগজ নিয়ে, ইজিচেয়ারের হাতলে পা দু’টো তুলে বসলেন। ইংরাজী কাগজটা বিছানাতেই পড়ে রইলো, কারণ তিনি ইংরাজী অক্ষর চেনেন না। বাংলা কাগজটা বানান করে করে, কোনমতে পড়তে পারেন। কিন্তু ইংরাজী কাগজ না নিলে সমাজে স্টেটাস্ রক্ষা করা যায় না।

আজ খবরের কাগজের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ অন্য কারণে। আজই দ্বিতীয় পাতায় তার একটা খবর ছাপার কথা। কফি ছেড়ে কাগজটা উল্টে দ্বিতীয় পাতা খুলে, বহুকষ্টে খবরটা খুঁজে বার করলেন—

আমি ভূতনাথ চোংদার গত ২৩-০৪-১৯৭০ তারিখে, ব্যাঙ্কশাল কোর্টের নোটারী পাবলিক মাধ্যমে, সীতাপতি চৌধুরী হইলাম। ভৃতনাথ চোংদার ও সীতাপতি চৌধুরী, এক ও অভিন্ন ব্যক্তি।

হাসিমুখে ভূতনাথবাবু বিছানা থেকে ইংরাজী দৈনিকটা নিয়ে এসে খবরটা খুঁজতে বসলেন। আজ এটাতেও একই খবর বার হবার কথা। অনেক চেষ্টা করেও তিনি খবরটা কোথায় ছাপা হয়েছে, বুঝতে পারলেন না।

কফির পেয়ালায় শেষ চুমুক দিয়ে, বেল বাজিয়ে চাকরকে ডাকলেন। একটু পরেই প্যাংলা গড়গড়া সেজে নিয়ে এসে উপস্থিত হ’ল। ইজিচেয়ারের দুদিকের হাতলে পা দু’টো সোজা করে মেলে দিয়ে, গড়গড়ার নল হাতে নিয়ে ভূতনাথবাবু চোখ বুজলেন। প্যাংলা তার পদসেবা করতে শুরু করলো।

ভূতনাথবাবু কিছুটা নিশ্চিন্ত হলেন। ভূতনাথ চোংদার নামটা তাকে আর মানায় না। আজই সন্ধ্যায় শহরের একটা বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তার সভাপতি হিসাবে যাবার কথা। তাছাড়া অনুষ্ঠান শেষে তাকে দানশীল, সমাজসংস্কারক ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী হিসাবে, সম্বর্ধনা দেবার কথা। আমন্ত্রন পত্রে তার নাম ভূতনাথ চোংদার না ছেপে, সীতাপতি চৌধুরী ছাপার কথা, তিনিই বলে দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে যাবার জন্য নতুন ধুতি, গিলে করা পাঞ্জাবী, পিতল মোড়া বাহারী লাঠি ও দামী শাল জোগাড় হয়ে গেছে। এই অবস্থায় এই নোটিশটার খুব প্রয়োজন ছিল।

চোখ বুজে এসব কথা ভাবতে ভাবতে, তিনি কোন অতীতে চলে গেলেন। তার আজ যে এত অর্থ, যশ, সম্মান, প্রতিপত্তি, তার কোনটার জন্যই, তাকে কোন পরিশ্রম করতে হয় নি। এইসব খুব অল্প দিনে তার করায়ত্ত হয়েছে। অথচ আজ থেকে মাত্র বিশ বছর আগে, তাঁর অধিকাংশ দিনই অনাহার বা অর্ধাহারে কেটেছে। পেট ভরে ভাত খেয়েছেন, এমন একটা দিনের কথা বহু চেষ্টা করেও তিনি মনে করতে পারেন না।

ভূতনাথবাবুর বাস ছিল সুন্দরগড় নামে একটা প্রত্যন্ত গ্রামে। গ্রামের পাশেই গভীর জঙ্গল। গ্রামের বেশীরভাগ মানুষই খুব গরীব। মাটির তৈরী ভাঙ্গাচোরা কুঁড়ে ঘরে ভূতনাথবাবু, মোক্ষদাদেবীকে নিয়ে বাস করতেন। বর্ষায় তার ঘরে অঝোর ধারায় জল পড়তো। মেরামত করার সামর্থ্য তার ছিল না। তিনি নিজে ছিলেন কাঠুরে। সম্পদের মধ্যে তার ছিল একটা ছেঁড়া মাদুর, দু’টো কাঁথা, খানকয়েক অ্যালুমিনিয়ামের বাঁকাচোরা বাসন, আর একটা বহু পুরানো কুঠার। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে, তিনি খালি পেটে কুঠার নিয়ে জঙ্গলে কাঠ কাটতে যেতেন। সঙ্গে কোঁচড়ে কিছু মুড়ি, সারাদিনের আহার। সকালে খেলে সারাদিন খাবার জুটবে না, তাই সঙ্গে নিয়ে যেতে হয়। রোজই অনেকটা পথ হেঁটে, জঙ্গলে গিয়ে কাঠ কাটতে যান। আগে গাছপালা কেটে, সাইজ মতো কাঠ কেটে নিয়ে এসে বিক্রী করে, কিছু আয় হ’ত। কিছু কাঠ জ্বালানীর কাজেও ব্যবহার করতেন। কিন্তু এখন আর সে দিন নেই। গাছ কাটায় এখন অনেক বাধা। ফলে দিনের শেষে সামান্য কিছু ডালপালা ছাড়া, কিছুই প্রায় জোটে না। রোজ যেটা তার কপালে জুটতো, সেটা বাড়ি ফিরে স্ত্রীর গঞ্জনা।

আজও তুমি খালি হাতে বাড়ি ফিরে এলে?

কাঠ কাটার এখন অনেক ঝামেলা গিন্নী, কী করবো বল?

কী আর করবে, এক মগ জল কলসী থেকে গড়িয়ে খেয়ে নাও। আজ কোন খাবার জুটবে না।

কেন? ঘরে কী কিছুই নেই?

ক’মন বাসমতী এনে দিয়েছ শুনি, যে খালি হাতে ফিরে এসে খাবার জুটবে?

আহা অমন করে কথা বলছো কেন? কাঠ না পাওয়া গেলে, আমি কী করবো? একদিন তুমি আমার সঙ্গে গিয়ে দেখ, বুঝতে পারবে কত ধানে কত চাল।

ও মা! এ মিনসে বলে কী, আমি যাব কাঠ কাটতে? আর তুমি ঘরে বসে বসে গিলবে?

আমি কী তাই বলেছি?

তবে কী বলেছ শুনি? বলতে আর কী বাদ রেখেছ? কথা শুনে মনে হয়, মুখে নুড়ো ঝাঁটা ঘষে দি। বলি খাওয়াতেই যদি না পারবে, তো বিয়ে করার সখ হয়েছিল কেন শুনি? আমার বাপ্ তো আর তোমার পায়ে ধরে আমায় তোমার হাতে তুলে দিয়ে যায় নি।

ক্রমে চিৎকারের মাত্রা বাড়তে থাকে। তারপর বাসন কোসন ফেলার আওয়াজ, ঝাঁটা পেটার শব্দ। একসময় রাত বাড়ে, আবার সব শান্ত। পরদিন আবার একই চিত্র।

এই ভাবেই দিন কাটে, সপ্তাহ কাটে, মাস কেটে বছর ঘুরে আসে। ভূতনাথবাবুর অর্থনৈতিক অবস্থা আরও খারাপ হয়। আগে তবু সপ্তাহে দু’তিনদিন অল্প হলেও ভাত জুটতো, এখন মুড়ি ভাতের স্থান দখল করেছে।

একদিন খুব ভোরে অন্যান্য দিনের মতোই ভূতনাথবাবু মোরাম ঢালা রাস্তা দিয়ে জঙ্গলে চলেছেন কুঠার নিয়ে কাঠ কাটতে। সেদিন আবার সকালেই মোক্ষদাদেবী বলে দিয়েছেন, কাঠ না নিয়ে তার আর বাড়ি ফেরার দরকার নেই। ভূতনাথবাবু মনকষ্টে চোখের জল ফেলতে ফেলতে জঙ্গলের পথে চলেছেন। মনে মনে স্থির করেছেন, কাঠ না পেলে আজ আর বাড়ি ফিরবেন না। যেদিকে দু’চোখ যায় চলে যাবেন। মনের দুঃখে কাঁদতে কাঁদতে, তিনি বললেন—“ ভগবান, আমি কী এমন পাপ করেছি, যে এত পরিশ্রম করেও, দু’মুঠো অন্ন জোটে না? স্ত্রীর মুখে একটু হাসি ফোটাতে পারি না? সারা জীবন তো এভাবেই কাটলো, এবার একটু শান্তি দাও, আমিও তো তোমারই সন্তান। সারাদিন এই ক’টা শুকনো মুড়ি চিবিয়ে থাকা যায়? একটু নারকেল টুকরো পেলেও তো কত ভাল লাগে, আমার কপালে কী কিছুই জুটবে না”?

দুম করে পায়ের পাশে একটা আওয়াজে, তার পথ চলা বন্ধ হ’ল। তিনি দেখলেন পায়ের পাশে একটা আস্ত নারকেল সদ্দ গাছ থেকে পড়েছে। চারিদিক তাকিয়ে দেখলেন, কাছে পিঠে কেউ কোথাও নেই। নারকেলটা কুড়িয়ে নিয়ে একবার গাছটার দিকে হাত জোড় করে ভগবানের উদ্দেশ্যে নমস্কার করতে গিয়ে, তার চোখ কপালে উঠলো। এ কী, এতো তালগাছ! আশেপাশে পরপর তাল খেজুরের সারি, একটাও তো নারকেল গাছ নেই। তাহলে নারকেল পড়লো কী ভাবে? আর একবার ভালভাবে পরীক্ষা করে দেখলেন, হ্যাঁ এ তো সত্যিই নারকেল, কোন সন্দেহ নেই। প্রথমে তিনি ভাবলেন ভগবানের দান। কিন্তু তারপরেই কী রকম গা ছমছম্ করে ভয় করতে লাগলো। আর সময় নষ্ট না করে, নারকেল হাতে তিনি ছুটতে শুরু করলেন। আর ঠিক তখনই পিছনের আকাশ থেকে কার গলা ভেসে এল— “ওঁরে ভয় নেঁই, পাঁলাচ্ছিঁস কেন? তোঁর মনকষ্ট দুঁর করতে আঁমিই তো তোঁকে ভাঁলবেঁসে নারকেঁলটা দিঁলাম। ওটা ছাঁড়িয়ে মুড়ি দিয়ে খাঁ”।

ভূতনাথবাবুর মনে হ’ল ভগবানের এরকম খোনা গলা কেন? পিছন ফিরে তালগাছের মাথায় দেখতে পেলেন একটা ভয়ঙ্কর জীবকে। লম্বা লম্বা হাতের, তালুর কাছ থেকে শুধু হাড়। রং বেশ ফর্সা। গলায় আবার ধবধবে সাদা পৈতে। চোখদুটো ভাঁটার মতো জ্বলছে। এক হাতে হুঁকো।

না, আর এক মুহুর্ত সময় নষ্ট করা চলবে না। বাঁচতে গেলে পালাতে হবে, পালাতে গেলে ছুটতে হবে। নারকেল ফেলে ভূতনাথবাবু আরও দ্রুত ছুটতে শুরু করলেন। পিছন থেকে অভয় বাণী শুনতে পেলেন—“পাঁলাচ্ছিস কেন? এতো আচ্ছা আঁহাম্মক। কোঁন ভয় নেঁই, আঁমি তো তোঁকে নারকেঁল দিলাম। দু’দন্ড বঁসে মুড়ি-নারকেল খাঁ না”।

বেশ খানিক ছোটার পর, ভূতনাথবাবু একটু থেমে পিছন ফিরে দেখেন, ঐ আজব জীব গাছ থেকে সরাৎ করে নেমে, তার দিকে ছুটে আসছে। ওঃ, সে কী গতি!

ভূতনাথবাবুর এবার বুঝতে বাকী রইলো না, যে তিনি ভূতের কবলে পড়েছেন। নতুন উদ্দমে গভীর জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে প্রাণ ভয়ে ছুটতে ছুটতে, জঙ্গলের অন্য এক দিকে এসে পড়লেন। দুরে একটা ভাঙ্গা বাড়ি। আরও কিছুটা দৌড়ে তিনি বাড়িটার কাছে এসে বুঝলেন, এটা একটা জীর্ণদশা, পরিত্যক্ত মন্দির। ভাঙ্গা দরজা ঠেলে মন্দিরে প্রবেশ করে, দরজা ভেজিয়ে দিলেন। আধো অন্ধকারেও তিনি একটি রংচটা রামসীতার যুগল মুর্তি দেখতে পেলেন। কোন কালে এই রামসীতার মুর্তি পূজা হ’ত। এখন এ মন্দির পরিত্যক্ত অবস্থায় জঙ্গলের মধ্যে পড়ে আছে।

দুম করে এক ধাক্কায় দরজা খুলে, তালগাছের মুর্তিমান বিভীষিকা মন্দিরের ভিতর প্রবেশ করলো। অন্ধকারে তার চোখদুটো থেকে যেন আলো বার হচ্ছে। এখন আবার মুন্ডুটাও হাড়ের তৈরী বলে মনে হচ্ছে। মাত্র চার ফুট দুরে হিংস্র ভূতের চেহারা দেখে, ভূতনাথবাবুর প্রায় মূর্ছা যাবার উপক্রম।

বীভৎস একটা চিৎকার করে হেসে উঠে, হাতদুটো সামনের দিকে বাড়িয়ে তালগাছের ভূত, ভূতনাথবাবুর দিকে এগিয়ে আসতে গিয়েও, থমকে দাঁড়িয়ে পড়লো। ভয়ে তার দেহ কুঁকড়ে গেছে।

ভূতনাথবাবু লক্ষ্য করলেন ভূতের ভয়ার্ত দৃষ্টি, মন্দিরের রামসীতার মুর্তির দিকে। অবস্থা বুঝে তিনি জোরে জোরে রামনাম করতে শুরু করলেন। রামরাম, রামরাম, রামরাম, রামরাম।

আমাকে ক্ষমা কঁর্, আমাকে মাঁরিসনা বাবা। আঁমি তোঁর কোন ক্ষতি কঁরবো না। আমি তোঁকে উঁপকার করা সঁত্ত্বেও তুই পাঁলিয়ে আসায় রাঁগ হয়ে গেঁল। ভূত সঁমাজে আমার কোঁন সম্মান থাঁকতো না। আমি এ অঞ্চলের একমাঁত্র ব্রহ্মদৈত্য। তুই দয়া করে তোঁর

ঐ দেঁবতার হাত থেঁকে আঁমাকে বাঁচা। তুঁই যা চাঁইবি সব দেঁব। তোর কী বঁর চাই বঁল?

ভূতনাথবাবু বুঝলেন তিনি ভূত দেখে যত ভয় পেয়েছেন, ভূত রামসীতার মুর্তি দেখে, তার থেকে অনেক বেশী ভয় পেয়েছে। তার তো কিছুই হারানোর নেই, এ ভাবে তিনি আর বাঁচতেও চান না। আজ তো তিনি বাড়ি ফিরবেন না স্থির করেই ঘর থেকে বার হয়েছেন, দেখাই যাক্ না কী হয়।

আমি যা যা চাইব, সব দেবে?

দেঁব বাবা দেঁব। তবে ঐ মুর্তির কাঁছ থেকে আঁগে বাঁইরে চল।

না, সেটি হচ্ছে না। আমি মন্দিরের বাইরে যাই, আর তুমি আমার ঘাড় মটকাও। বাঃ! বেশ ফন্দি। যা দেবার এখানেই দাও।

কী চাঁস বল?

অনেক টাকা, অনেক জামাকাপড়, বউ এর অনেক গয়না, ভাল বাড়ি, ভাল গাড়ি, চাকরবাকর, সব কিছু। দুর ছাই দরকারের সময় কিছু মনেও পড়ে না।

অঁত কিছু একসঙ্গে চাঁইলে পাঁবো কোথায়?

তবে এখানেই থাকো। রামরাম, রামরাম, রামরাম, রামরাম।

ওঁরে বাবা, থাঁম্ থাঁম্। এই নে।

ভূতের হাতে বড় বড় দু’টো বস্তা চলে এল।

এঁর মধ্যে টাঁকা, সোঁনাদানা আছে। এই নিয়ে বাঁড়ি যা।

শুধু সোনাদানা দিয়ে কী পেট ভরবে?

তঁবে একটা নারকেল নে। তালও নিঁতে পাঁরিস।

একটা নারকেল নিয়ে দু’জনের ক’দিন চলবে? ভাল ভাল খাবার, যখন যা চাইবো দিতে হবে।

ঠিক আঁছে। এই দুটো বস্তা নিয়ে বাঁড়ি যা। তোঁকে বর দিলাম, যখন যা চাঁইবি তাই পৌঁছে যাবে। আর আঁমার লোঁক তোর সঁব কাজ করে দেঁবে, তোর সেঁবা করবে। এঁবার আমায় মুক্তি দেঁ।

এই দু’টো বস্তা আমি নিয়ে যাব কী ভাবে?

বাঁইরে দু’টো গাধার ব্যঁবস্থা করে দিচ্ছি।

“ঠিক আছে গাধার ব্যবস্থা কর” বলে, ভূতনাথবাবু দরজাটা সামান্য ফাঁক করে দেখলেন দু’টো গাধা মন্দিরের সামনে ঘাস চিবচ্ছে।

যা আছে কপালে ভেবে তিনি বস্তা দু’টো গাধার পিঠে তুলে দিলেন। এবার হেঁটে এতটা পথ এদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়াও তো মুশকিল্। তিনি গম্ভীর গলায় বললেন “ আমি বাড়ি যাব কী ভাবে? আর একটা গাধার ব্যবস্থা কর”।

চোখের পলক পড়ার আগেই, কোথা থেকে আরও একটা গাধা এসে উপস্থিত। গাধার পিঠে চেপে ভূতনাথবাবু বললেন “কাজের লোক কখন পাব”?

বাঁড়ি ফিরে ডাঁকলেই প্যাংলা, বংশী, নেপো, গুঁপে, সবাই হাঁজির হয়ে যাবে।

বাড়ি ফিরে এসে বাইরে গাধা তিনটে বেঁধে রেখে, কোন মতে বস্তা দু’টো নিয়ে তিনি তার কুঁড়েঘরে ঢুকলেন। দু’জনে মিলে বস্তা খুলে দেখলেন, একটা বস্তায় সোনাদানা বোঝাই। অপরটায় শুধু টাকা আর টাকা।

ভূতনাথবাবুর মুখে সব কথা শুনে মোক্ষদাদেবী ফিক্ করে হেসে বললেন—“আমি জানতাম আমার সোয়ামী কত কাজের, কত বুদ্ধিমান। ওগো শুধু তাল তাল সোনা দিয়ে কী হবে? একটা গয়না গড়িয়ে দাও না”।

অনেক বছর পরে ভূতনাথবাবু, স্ত্রীর মুখে হাসি দেখলেন। খুশী হয়ে চিৎকার করে ডাকলেন- প্যাংলা ইধার আও।

রোগা হাড় জিরজিরে কালো মতো একটা লোক এসে বললো— জী হুঁজুর।

মা’র গয়না কোথায়?

কী কী গঁয়না পঁছন্দ?

মোক্ষদাদেবী অনেক ভেবে বললেন নাকছাবি, আংটি, আর কানের দুল নিয়ে এস।

মুহুর্তের মধ্যে প্যাংলা চকচকে নতুন দুল, আংটি, আর নাকছাবি নিয়ে এসে উপস্থিত।

এবার ভাল কিছু খাবারের ব্যবস্থা কর।

কী খাঁবার হুঁজুর?

পান্তাভাত, কাঁচা পেঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা, আর একটু তেঁতুল নিয়ে এস।

জী হুঁজুর।

খাবার চলে এল।

এবার তুমি যাও। আর শোন, ডাকলেই আসবে।

মোক্ষদাদেবী দুল, আংটি, ও নাকছাবি পরে স্বামীর সাথে অনেকদিন পরে পেটপুরে ভাত খেতে বসলেন।

ওঃ, কী আনন্দ! রাতে কী খাবে বল?

রাতে কিন্তু গরম ভাত খাব।

খাওয়া শেষ হলে ভূতনাথবাবু ডাকলেন।– বংশী।

আর একজন এসে উপস্থিত।

শোন এই বাসনগুলো ফেলে দিয়ে, ভাল কিছু বাসনপত্র এনে রেখ। আর শোন, আমাদের ঘরটাকে একটু মেরামত করে রাখবে, আর বড় একটা ট্রাঙ্ক ও একটা বড় তালা এনে রাখবে। ভূতনাথবাবু ঠিক করেছেন টাকা ও সোনাদানা ট্রাঙ্কে রেখে, তালা দিয়ে রাখবেন।

সন্ধ্যাবেলা ঘর মেরামত হয়ে গেল। নতুন বাসন, নতুন মাদুর, নতুন কাঁথাও এল।

এইভাবে ধীরে ধীরে তার জীবনধারণের মান, ক্রমশঃ উন্নত হতে লাগলো। নতুন নতুন চাহিদা বাড়তে লাগলো। মাদুরের জায়গা নিল পালঙ্ক। পান্তাভাত, পেঁয়াজ, হ’ল বিরিয়ানী, কোপ্তা, কাবাব।

ভূতনাথবাবুর ঘরে বসে এরকম উন্নতি দেখে, গ্রামের সবাই অবাক হয়ে ভাবতে লাগলো— কী ব্যাপার, রহস্যটা কী?

ভূতনাথবাবু বুঝলেন এখানে থাকাটা আর নিরাপদ নয়। মাঝে মাঝেই প্যাংলা, গুপে, নেপোর আনা সোনা দানায়, অনেকগুলো ট্রাঙ্ক হয়ে গেছে। তিনি প্যাংলা, বংশী, নেপো, গুপে, সবাইকে ডেকে শহরের বুকে একটা বড় সুন্দর বাড়ির ও একটা ভাল গাড়ির ব্যবস্থা করতে বললেন।

আর তারপর থেকেই, এ বাড়িতে আসা। তবে ইনকাম ট্যাক্স ও অন্যান্য ঝামেলা এড়াতে টাকা, সোনাদানা, আজও বাড়িতেই রাখেন। শুধু বড় বড় ট্রাঙ্কের বদলে, বেশ কিছু বড় বড় লোহার সিন্দুক এসেছে। তাও নেপো, গুপেরাই ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

বাঁবু, ও বাঁবু।

প্যাংলার ডাকে, ভূতনাথবাবুর ঘোর কাটলো। চোখ খুলে দেখলেন প্যাংলা তখনও তার পা টিপে যাচ্ছে।

যাও, যথেষ্ট হয়েছে।

তিনি আর একবার চা খেয়ে, স্নান ও আহার সেরে, সন্ধ্যার সভার জন্য প্রস্তুত হলেন। মোক্ষদাদেবীও আজ স্বামীর সাথে আমন্ত্রিত।

সন্ধ্যাবেলার সভায় তাকে বরণ করে, তার গায়ে নতুন দামী শাল জড়িয়ে দেওয়া হ’ল। একজন ভদ্রলোক বলতে শুরু করলেন- সীতাপতিবাবু এই শহরের একজন কৃতি পুরুষ। তাঁর কর্মনিষ্ঠা, দানধ্যান, শিক্ষা, পান্ডিত্য, আমাদের মুগ্ধ করে, উদ্বুদ্ধ করে, শিক্ষা দেয়। আজ আমাদের মধ্যে তাঁকে পেয়ে, আমরা গর্বিত, আমরা ধন্য। এবার তাঁকে ফুলের তোড়া ও মানপত্র দিয়ে সম্বর্ধনা জানাবেন, শহরের মাননীয় জজসাহেব শ্রী ফটিক মুখার্জী।

হলঘরের একপাশে প্যাংলা আর বংশী, তাদের সারা শরীর চুলকাতে চুলকাতে বুঝতে পারে না, সীতাপতিবাবু কে?

জজসাহেব ফুলের তোড়া মালিকের হাতে দিতে, তারা বুঝতে পারে সীতাপতিবাবুই তাদের মনিব ভূতনাথবাবু। কিন্তু ততক্ষণে তাদের সারা শরীরে আমবাতের মতো দাগড়া দাগড়া, চাকাচাকা হয়ে লাল হয়ে গেছে। সঙ্গে অসম্ভব চুলকানি।

দিনকতক পরে প্যাংলার মুখে মনিবের নাম পরিবর্তনের কথা শুনে গুপে খুব অবাক হয়ে গেল। গা, হাত, পা চুলকাতে চুলকাতে সে জিজ্ঞাসা করলো—“কী ব্যাঁপার বলতোঁ”?

আরও কিছুদিন পরে গুপের মুখে ভূতনাথবাবুর নাম পরিবর্তনের কথা শুনে, তালগাছের ব্রহ্মদৈত্য জিজ্ঞাসা করলো—“ভূতনাথবাঁবুর নতুন নাঁম কী হঁয়েছে”?

সীতাপঁতি চৌধুরীঁ। নামটা বলার পর থেকেই আবার সেই চুলকানিটা চাগাড় দিয়ে উঠলো।

ব্রহ্মদৈত্য, ভূতনাথবাবুর নতুন নামটা শুনে গম্ভীর হয়ে গেল। তার মনে হ’ল, শরীরটা কী রকম খারাপ লাগছে। মনের মধ্যে একটা ভয় ভয় ভাব, অসোয়াস্তি, গা বমিবমি, সঙ্গে অসহ্য চুলকানি।

মাসখানেক পরের ঘটনা, সীতাপতিবাবুর বাড়িতে সেদিন অনেক অতিথি আসার কথা। তিনি প্যাংলাকে ডেকে ডেকে না পেয়ে, বংশীকে ডাকলেন। তাকেও পাওয়া গেল না। শেষে অনেক চিৎকার চেঁচামিচির পর গুপে এসে হাজির হ’ল।

প্যাংলা, বংশী সব গেল কোথায়?

বঁলতে পারব না বাঁবু।

তোমাদের দিয়ে যদি কোন উপকার হয়, যাও বেশ কিছু টাকা নিয়ে আস। আর অতিথিদের জন্য ভাল ভাল খাবারের ব্যবস্থা করো । দুপুরে এখানে প্রায় পঞ্চাশজন খাবে। ঠিক সময়ে খাবারের ব্যবস্থা করবে। দেখ, যেন কোন ত্রুটি না থাকে।

গুপে চলে গেল। সীতাপতিবাবু গড়গড়া মুখে ভাবতে লাগলেন, সমাজে তার যা পরিচিতি, সামনের ইলেকশানে তার দাঁড়ানো কেউ আটকাতে পারবে না। টাকা আর সোনার জোরে, তার জেতাও প্রায় নিশ্চিত। তার পরেই মন্ত্রী। ওঃ, ভাবতে পারছি না। আজ তার ইলেকশানে দাঁড়ানোর ব্যাপারটা পাকা হবে। শুধু বিশেষ অতিথি ও নেতাদের আজ দুপুরে একটু খুশী করা। তার জন্য তো প্যাংলা, বংশী, নেপো, গুপে আছেই। চিন্তা কী?

যথাসময়ে বড় বড় নেতা, সমাজসেবী ও মন্ত্রীসান্ত্রীর দামী দামী গাড়িতে, তার বাড়ির সামনের চওড়া রাস্তা ভরে গেল। তিনি নিজে সবাইকে আপ্যায়ন করে, সাজানো বড় হল ঘরে বসালেন। অনেকবার ডাকার পর, প্যাংলা মাটির ভাঁড়ে করে চা দিয়ে গেল, সঙ্গে একটা করে নেড়ো বিস্কুট। লজ্জায় সীতাপতিবাবুর মুখ লাল হয়ে গেল। বাইরে এসে তিনি প্যাংলাকে জিজ্ঞাসা করে জানলেন ভাল কাপ, ভাল চা, ভাল বিস্কুট, এমন কী টাকার ব্যবস্থাও সে করতে পারেনি।

ঘরে চাল, ডাল, তেল, নুন, চা, চিনি, কিছুই থাকে না। রাখার প্রয়োজনও হয় না, কারণ প্রয়োজনের সময় প্যাংলারা তৈরী করা খাবার জোগান দেয়। এখন চা, চিনি, বিস্কুট, স্টোভ, কিনে এনে নতুন করে চা তৈরী করে দেবার সময়ও নেই।

চায়ে চুমুক দিয়ে অনেকে মুখ বেঁকিয়ে ভাঁড় সরিয়ে রাখলেন। অনেকে চায়ের ভাঁড়ে হাতও দিলেন না। সবার সামনে বসে বসে সীতাপতিবাবু তা দেখতে বাধ্য হলেন।

দুপুরে খাবার পাতে লাল মোটা চালের ঠান্ডা ভাত, অখাদ্য তরকারী, আর ছোট ছোট ত্যালাপিয়া মাছের ঝোল পরিবেশন করা হ’ল। তাও আবার বাঁকাচোরা অ্যালুমিনিয়ামের বাসনে।

সীতাপতিবাবু রাগে কাঁপতে কাঁপতে প্যাংলাকে একটা চড় কষালেন। তার হাত প্যাংলার গালের একদিক থেকে অপর দিকে চলে গেল, কিন্তু প্যাংলার শরীর স্পর্শ করলো না। ঠিক যেন হাওয়ায় চড় কষালেন।

এই খাবার নিয়ে এসেছ? ভাল খাবারের ব্যবস্থা করতে বলেছিলাম না?

জোঁগাড় করা সঁম্ভব হয় নি।

সীতাপতিবাবু কথা না বাড়িয়ে টাকার সিন্দুক খুলে টাকা বার করতে গেলেন, ভাল খাবার কিনে আনবার জন্য। কিন্তু এ কী? সিন্দুক খুলে দেখলেন সমস্ত টাকার রং অস্বাভাবিক ভাবে পরিবর্তন হয়ে গেছে। এর আগে হলুদ রঙের একশ’ টাকা, নীল রঙের কুড়ি টাকা, সবুজ রঙের পঞ্চাশ টাকার নোট তিনি দেখেন নি। তিনি বেশ বুঝতে পারছেন এর একটা নোটও কোন দোকানদার নেবে না। পাগলের মতো তাড়াতাড়ি খাবার ঘরে ফিরে এসে দেখলেন, অতিথিরা সমস্ত খাবার ফেলে, ফিরে যাবার জন্য প্রস্তুত। তার সমস্ত অনুরোধ উপেক্ষা করে, অতিথিরা ফিরে গেলেন। প্যাংলা, বংশী, গুপে, নেপো, কাউকে ডেকে পাওয়া গেল না।

সীতাপতিবাবু আবার সিন্দুকের কাছে গিয়ে এক এক করে সবক’টা সিন্দুক খুললেন। হায়, যত গয়না, যত সোনাদানা, সব কালো হয়ে গেছে। পিতলও এর থেকে অনেক বেশী চকচক্ করে। চিৎকার করে তিনি মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন।

মোক্ষদাদেবী স্বামীর চিৎকারে হন্তদন্ত হয়ে ঘরে এলেন। তাঁর কান, নাক, গলা, হাত, তখনও কালো গয়না দিয়ে সাজানো।

সীতাপতিবাবু বুঝতে পারলেন রাতারাতি তিনি ভিখারী হয়ে গেছেন। একমাত্র সহায় প্যাংলা, বংশীদের বার বার ডেকেও দেখা পাওয়া গেল না।

এদিকে আবার গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে, নতুন বিপদ এসে উপস্থিত। বেশ কিছুদিন হ’ল তার এই বাড়ি নিয়ে আদালতে একটা মামলা চলছিল। এতদিন মামলার কোন নথিপত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। আজ হঠাৎ দেখা গেল মামলার সমস্ত কাগজপত্র, এমন কী সীতাপতিবাবুর কুকীর্তির নতুন সব তথ্য, ফাইল বন্দি হয়ে জজসাহেবের টেবিলে গুছিয়ে রাখা আছে। ফলে মামলার নতুন মোড় নিল। জজসাহেবের তাঁর বত্রিশ পাতার রায়ে, ভয় দেখিয়ে জোর করে অন্যের বাড়ি দখল, কর ফাঁকি, ইত্যাদি নানা কারণে, সীতাপতিবাবুকে দোষী সাব্যস্ত করে, তিন বৎসর সশ্রম কারাদন্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস হাজত বাস ঘোষনা করলেন। তার বাড়ি, বাড়ির আসল মালিককে সাত দিনের মধ্যে ফিরিয়ে দেবারও হুকুম দিলেন। সীতাপতিবাবুর পক্ষে পাঁচ হাজার তো দুরের কথা, পাঁচ টাকা জরিমানা দেওয়াও সম্ভব ছিল না। ফলে তার সাড়ে তিন বছরের হাজতবাস হ’ল।

বাড়ি ছেড়ে দেবার পর মোক্ষদাদেবীর হাতে বেশ কিছু কালো গয়না, আর অনেক, অনেক বিচিত্র রঙের অচল টাকা ছাড়া, আর কিছুই ছিল না। বাড়ির নতুন মালিকের কাছ থেকে কিছু টাকা প্রায় ভিক্ষা করে, মোক্ষদাদেবী একা দেশের বাড়ি সুন্দরগড়ে ফিরে এলেন। স্বামী কারাগারে।

দেশে ফিরে দেখলেন তার কুঁড়েঘর আবার আগের মতোই ভগ্নদশা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ছেঁড়া মাদুর, ছেঁড়া কাঁথা ও অ্যালুমিনিয়ামের সামান্য কিছু বাঁকাচোরা বাসনপত্রও রাখা আছে।

মোক্ষদাদেবী ফিরে এসেছেন শুনে, গ্রামের মানুষ ভিড় করে তাকে দেখতে এল। সকলে ভূতনাথবাবুর খোঁজ করতে লাগলো। এতদিন তারা কোথায় ছিল, আবার এই অবস্থা কী ভাবে হ’ল, তাও জিজ্ঞাসা করলো।

সাড়ে তিন বছর পরে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে, মোক্ষদাদেবীকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে, সীতাপতিবাবু গ্রামে ফিরে এলেন। ভাঙ্গা ঘরে ঢুকতেই ঝাঁটা হাতে মোক্ষদাদেবী ঝাঁঝের সঙ্গে বললেন—“তোমার বুদ্ধির বহর বোঝা গেছে। এই ক’বছর অনেক জ্বালিয়েছ। কাল থেকে রোজগারের ব্যবস্থা দেখ। রোজগার করতে না পারলে এতদিন যেখানে ছিলে, সেখানেই গিয়ে থাক। এই বুদ্ধি নিয়ে উনি আবার মন্ত্রী হবেন। মিনসের মুখ দেখলেও পাপ হয়”।

পরদিন ভোরে ধারহীন জং ধরা পুরানো কুঠার নিয়ে, ভূতনাথবাবু জঙ্গলের পথে কাঠ কাটতে চললেন। আজ সঙ্গে মুড়িও জোটে নি। এই ক’বছরে জঙ্গল কেটে চাষবাস শুরু হয়েছে। অনেক নতুন নতুন ঘর বাড়িও হয়েছে। পুরানো রাস্তায় আগের মতোই অনেক তাল খেজুরের সারি। ভূতনাথবাবু নানা কথা ভাবতে ভাবতে পথ চলছেন— ভরা জঙ্গলেই কাঠ পাওয়া যেত না, এখন তো জঙ্গল কেটে সাফ হয়ে গেছে। এবার তো উপোস করে মরতে হবে, বউ এর গঞ্জনাতো আছেই।

কীরে নাম পাঁলটে আমায় জব্দ কঁরবি ভেবেছিলি নাঁ? এইজন্য মাঁনুষের উপকার কঁরতে নেই। এঁবার না খেঁয়ে মর্। এদিকে কাঁঠ কাটতে এলে ঘাঁড় মটকে দেঁব। আঁজ ছেঁড়ে দিলাম।

খোনা গলার কথাগুলো শুনে, ভূতনাথবাবু তালগাছের মাথায় তাকিয়ে দেখলেন, সাদা পৈতে গলায় হুঁকো হাতে সেই ব্রহ্মদৈত্য বসে আছে। হাতের তালু থেকে শুধু হাড়, চোখদুটো রাগে জ্বলছে। একটু দুরেই গুপে, বংশী ও প্যাংলাকে দেখা গেল।

ভূতনাথবাবু কুঠার ফেলে গ্রামের অন্য পথ ধরলেন। তাকে এই গ্রামে আর কোনদিন দেখা গেল না।

সুবীর কুমার রায়।

১৭-০৬-২০০৬.

 

 

Advertisements

5 thoughts on “সীতাপতি { লেখাটি দাশুর ডাইরি থেকে ও প্রতিলিপি (বাংলা) পত্রিকায় প্রকাশিত।}

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s