খেজুর রস (স্মৃতির পাতা থেকে) {লেখাটি সুপ্ত প্রতিভা- Supto Protibha ও প্রতিলিপি পত্রিকায় প্রকাশিত।}

DSCN9723 - Copyআমাদের কোয়ার্টার্সের ঠিক পাশেই একটা খেজুর গাছ ছিল। শীতকালে একটা লোক, গাছ চেঁচে একটা কলসী বেঁধে দিয়ে যেত। মাঝেমাঝে গাছে নতুন কলসী বেঁধে, পরদিন খুব ভোরে আমাদের খেজুর রস দিয়ে যেত। ঐ অমৃত খেয়ে যত না আনন্দ পেতাম, তার থেকে অনেক বেশি কষ্ট হ’ত, ঐ অমৃত পান করার জন্য, শীতের মধ্যে অত ভোরে ঘুম থেকে উঠতে। একদিন খুব ভোরে চিৎকার চেঁচামিচিতে ঘুম ভেঙ্গে গেল। শুয়ে শুয়েই শুনলাম আমাদের পায়খানার গাড়ুটা (বদনা) পাওয়া যাচ্ছে না।

অ্যালুমিনিয়ামের তৈরী গাড়ুটার বয়স, আমার থেকেও বেশী। সেটার ওপরেও যে কারো লোভ থাকতে পারে, বাড়ির কেউ ধারণাও করতে পারে নি। একটা মুসলমান লোক আমাদের গরুর ঘাস দিয়ে যেত। তার ওপর কেন জানিনা, বাবার সন্দেহ হ’ল। পরদিন তাকে ধমক দিয়ে জেরা করতে, সে স্বীকার করলো যে সে কাঁচা রস নিয়ে যাবার জন্য, গাড়ুটা নিয়েছে। ঐ গাড়ু করে খেজুর রস নিয়ে গিয়ে যে কেউ খেতে পারে, সেদিন প্রথম জানলাম।

এই খেজুর রস প্রসঙ্গে আরও একটা কথা মনে পড়ছে। পরবর্তীকালে আমরা রামরাজাতলায় চলে আসার পর, চেঙ্গাইল প্রসঙ্গে আমার ছোট ভাই সকলকে বলে বেড়াতো— “আমরা আগে যেখানে ছিলাম, সেখানে হাঁড়ি হাঁড়ি তাড়ি খেতাম”।

সুবীর কুমার রায়।

১১-০৪-২০১৬

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s