পাহাড়ের রোজনামচা– চতুর্দশ পর্ব {লেখাটি www.amaderchhuti.com ও TOUR & TOURISTS পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত।}

DSCN9767আজ সেপ্টেম্বরের পাঁচ তারিখ। আজও বেশ সকালেই ঘুম ভেঙ্গে গেল। মুখ ধুয়ে তৈরি হয়ে নিয়ে চা খেতে গেলাম। দেখলাম আমাদের বাস গতকাল সন্ধ্যায় এসে দাঁড়িয়ে আছে। গতকাল অন্ধকার আর মেঘবৃষ্টির মধ্যে একপাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটাকে লক্ষ্য করি নি। মালপত্র নিয়ে লজের বিল মিটিয়ে, বাসে এসে মালপত্র্র গুছিয়ে তুললাম। আর কোন চিন্তা নেই। চা জলখাবার খেয়ে বাস ছাড়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বাসে আস্তে আস্তে লোক উঠছে। আমরাও বাসে উঠে বসলাম। একটু পরেই বাস ছেড়ে দিল। আগের দিন এ পথ সন্ধ্যার অন্ধকারে এবং ভীষণ ভিড়ে এসেছিলাম। তাই রাস্তাঘাট, নদীনালা, ভালোভাবে দেখার সুযোগ হয় নি। আজ খুশি মনে চারিদিক লক্ষ্য করতে করতে, ফুরফুরে মেজাজে চলেছি। অনেকটা পথ এসে, বাসটা একটা বাঁকের মুখে দাঁড়িয়ে গেল। গতকালের প্রবল বর্ষণে ছোট হলেও, ভয়ঙ্কর ধ্বস নেমেছে। ঠিক বাঁকটার মুখে, রাস্তার খাদের দিকটায়, অনেকটা অংশ বহু নীচে নেমে গেছে। পাশ দিয়ে একটা জীপ চলে যেতে পারে, কিন্তু বাস নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। জায়গাটার নাম দেখলাম “পালিগড়”। বাস থেকে নেমে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া, আমাদের আর করার কিছুই নেই। এ রাস্তা সারানো আমাদের কর্ম নয়। এর জন্য স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও যথেষ্ট দক্ষতা থাকার বিশেষ প্রয়োজন। বাসের কয়েকজন বাস ড্রাইভারকে বললো, বাস খালি করে, সাবধানে ভাঙ্গা জায়গাটা পার হয়ে যেতে। সকলকে বাস থেকে নামিয়ে, বাস খালি করাও হ’ল। কিন্তু ঐ ভাঙ্গা অংশ পার করে বাস নিয়ে যাওয়া সম্ভব হ’ল না। তখন স্থানীয় বাস যাত্রীরা উপর থেকে বড় বড় পাথর বয়ে নিয়ে এসে, ভাঙ্গা জায়গা মেরামত করতে শুরু করে দিল। পাহাড়ের দিক, অর্থাৎ খাদের উল্টোদিকে রাস্তার একবারে পাশ থেকে পাথর সরিয়ে, ঐ জায়গার রাস্তা, খানিকটা চওড়া করার চেষ্টাও করা হ’ল। বুঝতে পারছি এটা সম্পূর্ণ সাময়িক, হয়তো দু’চারটে গাড়ি পার করার মতো ব্যবস্থা হচ্ছে। তা হোক, তবু একটা গাড়ি পার করা সম্ভব হলেও, আমরাই পার হচ্ছি। এইভাবে বেশ কিছুক্ষণ কাজ করার পর, বাস চলাচলের মতো অবস্থা তৈরি করা সম্ভব হ’ল। ড্রাইভার খুব সাবধানে ভাঙ্গা জায়গাটা দক্ষ হাতে পার করে নিয়ে গেল। জানিনা সামনে আবার আমাদের জন্য আর কোন দুর্ভোগ অপেক্ষা করছে কী না। আস্তে আস্তে এঁকেবেঁকে আগের দিনের সেই পুরানো পথ ধরে, আমরা বারকোট ফিরে এলাম। সমস্ত লোক বাস থেকে নেমে পড়লো। মাধব ও দিলীপ রাস্তায় নেমে পড়েছে। প্রত্যেক বারের মতো, আমি বাসের ছাদে উঠেছি মালপত্র নামাতে। আমাদের ছাড়া আর সকলের মালপত্র বলতে ঝুড়ি, ছোট ছোট কাপড়ের পোঁটলা ইত্যাদি। কাজেই ওরা চটপট্ নিজেদের মালপত্র নিয়ে বাসের ছাদ থেকে নেমে পড়লো। আমাকে অতগুলো হোল্ড-অল্, ও সুটকেস নামাতে হবে। একটা মালও নীচে নামানো হয় নি, বাসের মুখ ঘুরিয়ে আনার জন্য, বাস ছেড়ে দিল। সঙ্গীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে রইলো। আমি বাসের ছাদে উবু হয়ে বসে আছি। ড্রাইভার খুব জোরে বাস চালিয়ে নিয়ে চললো। অনেকটা পথ এগিয়ে গিয়েও, বাসের মুখ উল্টোদিকে ঘোরানোর কোন লক্ষণ দেখছি না। কোন জায়গা থেকে বাসকে আবার মুখ ঘুরিয়ে বারকোট নিয়ে যাওয়া হয় তাও জানিনা। বাসটা আদৌ মুখ ঘুরিয়ে আনতে যাচ্ছে কী না, তাও সঠিক জানা নেই। ভয় হচ্ছে, এখন যদি বলে এবেলা বাস এখানেই থাকবে, তাহলে এত মালপত্র নিয়ে কী করবো? হঠাৎ রাস্তায় বাসের ছাদে হনুমানের মতো আমার বসে থাকার ছায়া দেখে, ড্রাইভার জানালা দিয়ে মুখ বার করে, অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলো, বাসের ছাদে বসে আমি কী করছি। বললাম আমাদের মালপত্র এখনও নামানো হয় নি। বুঝলাম ড্রাইভার বা কন্ডাক্টার, কেউই জানতো না যে, আমি বাসের ছাদে বসে আছি। যাহোক্, এতক্ষণে একটা জায়গায় এসে, বাসের মুখ আবার বারকোটের দিকে ঘোরানো শুরু হ’ল। এই জায়গার রাস্তাও কিন্তু বেশ সরুই। বাসটা একবার সামনে উচু পাহাড়ের দিকে এগোয়, আবার খাদের দিকে পিছিয়ে এসে, ব্রেক কষে হঠাৎ ঝাঁকুনি দিয়ে দাঁড়ায়। এইভাবে এগিয়ে পিছিয়ে, অনেক কসরত করে বাসের মুখ ঘোরানো পর্ব চলছে। আমি খুব সাবধানে ছাদের একটা পাটাতন ধরে বসে আছি। ড্রাইভার আমাকে ধার থেকে সরে গিয়ে বাসের মাঝখানে বসতে বললো। বাসটা যখন পিছিয়ে খাদের দিকে এসে থেমে যাচ্ছে, বাসের ছাদ থেকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, বাসের পিছন দিকের অনেকটা অংশ, পিছনের চাকার প্রায় আগে পর্যন্ত, আমাকে নিয়ে খাদে ঝুলছে। বুঝতে পারছি না, সেই যদি সরু রাস্তার ওপরেই বাস ঘোরাতে হয়, তাহলে বারকোট থেকে তেল পুড়িয়ে এতটা পথ কষ্ট করে পার হয়ে, এই সুইসাইডাল্ পয়েন্টে আসার দরকার কী। বাসের ছাদে উবু হয়ে বসে, প্রায় দম বন্ধ করে ড্রাইভারের কেরামতি দেখছি। যাহোক্, শেষ পর্যন্ত ঐ ভাবে এগিয়ে পিছিয়ে বাসের মুখ ঘরিয়ে, বাসকে আবার বারকোটের দিকে নিয়ে যাওয়া হ’ল। বারকোটে ফিরে এসে, মালপত্র নামিয়ে, হোটেলে ঢুকলাম। আগের দিনের সেই ঘরটা পাওয়া গেল না। ঠিক তার উল্টো দিকে একটা ঘর পেলাম। এ ঘরটা থেকে বাথরুম পায়খানা কাছে। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে, একে একে তিনজনে খুব ভাল করে স্নান করে, অবশিষ্ট বোর্ণভিটাটা শেষ  করলাম। তারপরে একতলায় গিয়ে খেয়েদেয়ে, আবার ঘরে ফিরে এলাম। আগেরবার লক্ষ্য করেছি, বিকেল তিনটে-সাড়ে তিনটে নাগাদ, একটা স্টেট বাস বারকোট আসে। বাসটা কিন্তু আসে, যেদিক থেকে আমরা প্রথম দিন বারকোট এসেছিলাম, তার উল্টো দিক থেকে। অর্থাৎ বাসের ছাদে বসে আমাকে যেদিকে যেতে হয়েছিল, সেই দিক থেকে। বাসটা রাতে বারকোটে থেকে, পরদিন সকালে ঐ পথে মুসৌরী হয়ে, দেরাদুন যায়। অপর দিকে যে বাসটা হৃষিকেশ থেকে বারকোট হয়ে, সায়নাচট্টি যায়, সেটা আবার বারকোট থেকে হৃষিকেশ ফিরে যায়। আমরা আর কোন ঝুঁকির মধ্যে না গিয়ে ঠিক করলাম যে, সকালে যে বাসটা আগে ছাড়বে, তাতেই দেরাদুন বা হৃষিকেশ চলে যাব। কারণ এ যা রাস্তা, বাছাবাছি করতে গিয়ে দু’টোই হারাতে হতে পারে।

খাটে শুয়ে শুয়ে গল্প গুজব করে সময় কাটছে। বাড়িতেও ফিরে যাবার খবর দিয়ে চিঠি লিখলাম। গাড়ির আওয়াজ কানে আসলেই, জানালা দিয়ে মুখ বার করে লক্ষ্য করছি, আমাদের কাঙ্খিত যানটি এল কী না। এইভাবে বিকেল হয়ে গেল। হঠাৎ মাধব জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে বললো, “বাহন রেডি”। তাকিয়ে দেখি দেরাদুন যাবার স্টেট বাস এসে গেছে। কী যে খুশি হলাম, কলকাতা-হাওড়ায় নিজের এলাকায় বসে ভাবা যাবে না। সঙ্গে সঙ্গে নীচে নেমে এলাম। একটু দুরেই বাসটা দাঁড় করানো আছে। ড্রাইভারকে আগামী কাল সকালে বাস কখন ছাড়বে জিজ্ঞাসা করলাম। প্রথমে সে খুব একটা পাত্তা না দিলেও, কিছুক্ষণ পরে নিজে থেকেই জানালো, বাস কাল সকালে ছাড়বে, এবং সন্ধ্যা নাগাদ দেরাদুন গিয়ে পৌঁছবে। রাস্তা ঠিক থাকলে বিকাল নাগাদই পৌঁছে যেতে পারে। ভাড়া লাগবে মাথাপিছু তের টাকা সত্তর পয়সা। সব খবর পেয়ে ওখান থেকে ফেরার পথে জলখাবার কিনে, হোটেলে নিজেদের ঘরে ফিরে এলাম। কিছুক্ষণ বাদে হৃষিকেশ যাবার বাসও এসে হাজির হ’ল। মনের জোর অনেকটা বেড়ে গেল। রাতে খাওয়া দাওয়া সেরে বাড়ি ফেরার জন্য পুরোপুরি তৈরি হলাম।

আজ সেপ্টেম্বর মাসের ছয় তারিখ। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে তৈরি হয়ে মালপত্র নিয়ে নীচে এলাম। হোটেলের বিল মিটিয়ে বাসের টিকিট কাটবো ঠিক করলাম। হৃষিকেশগামী বাস ড্রাইভার আমাদের জানালো, দেরাদুন যাবার স্টেট বাসের ভাড়া অনেক বেশি। সে আমাদের তার বাসেই যেতে বললো। দেরাদুনগামী স্টেট বাস ড্রাইভারকে সব কথা বলতে, সে শুধু বললো আমরা যা ভাল বুঝবো তাই করতে। আমরা ঠিক করলাম, হৃষিকেশের বাসেই যাব। কিছুক্ষণ পরে দেরাদুনগামী বাস ড্রাইভার আমাদের বললো, “হৃষিকেশের বাস ভাড়া সামান্যই কম, কিন্তু ঐ বাস যেখানে সেখানে প্যাসেঞ্জারের আশায় দাঁড়ায়, কারণ ওটা প্রাইভেট বাস। প্যাসেঞ্জার কম থাকলে, কায়দা করে মাঝপথে হল্ট্ পর্যন্ত দিতে পারে। এটা স্টেট বাস, কাজেই প্যাসেঞ্জার হোক না হোক, তার কোন যায় আসে না। কাজেই ঐ বাসের কম ভাড়ার লোভ না করে, স্টেট বাসে যাওয়াই ভাল”। মহা সমস্যা। শেষ পর্যন্ত আমরা ভেবে দেখলাম, হাওড়া ফেরার ট্রেনের টিকিট দেরাদুন থেকে কাটাই সুবিধাজনক। কারণ হৃষিকেশ থেকে আবার হরিদ্বার বা দেরাদুন যেতে হতে পারে। আমরা দেরাদুন যাবার স্টেট বাসে মালপত্র তুলতে শুরু করলাম। হৃষিকেশগামী বাস ড্রাইভার আমায় ডেকে বললো, যে সে হৃষিকেশের বাস ভাড়া আরও দু’টাকা করে কমিয়ে দেবে। আমরা যেন তার বাসে মালপত্র নিয়ে চলে আসি। সে বিকালের মধ্যেই আমাদের হৃষিকেশ পৌঁছে দেবে। এতদিন আমাদের প্রয়োজনের সময়, এইসব বাসই আমাদের নিয়ে ছেলেখেলা করেছে। আজ নিজেদের স্বার্থে, বাসের ভাড়া কম করে নিতেও রাজি। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমাদের নিয়ে যাবার জন্য তার এত ইন্টারেষ্ট্ কেন?

যাহোক্, দেরাদুন যাবার স্টেট বাসে একবারে সামনে আমাদের সিট নিলাম। বাস বেশ ফাঁকা। অপর দিকে কম ভাড়ার জন্যই বোধহয়, হৃষিকেশের বাসে বেশ ভালই ভিড় হয়ে গেছে। আমাদের বাস ছেড়ে দিল। বাস একবারে খালি। বেশ খানিকটা পথ আসার পর, এক জায়গায় বাস দাঁড় করিয়ে, বাসের ছাদে অনেক বস্তা সিমেন্ট তোলা হ’ল। মনে মনে ভাবলাম, এই লোকটাই তো বেশি খদ্দের তুলতে চায় দেখছি। তবু এই বাসে যাওয়ার একটা অন্য ভালো দিক আছে। হৃষিকেশগামী রাস্তাটা গোটাটাই আমরা দেখে এসেছি, কারণ বাস যাবে সেই ধরাসু হয়ে হৃষিকেশ। এদিকের রাস্তা অদেখা। নতুন রাস্তা, নতুন রূপ। বেলা সাড়ে বারটা-একটা নাগাদ ড্রাইভার “ডামটা” নামে এক জায়গায়, বাস দাঁড় করালো। এর আগে এক জায়গায় বাস দাঁড় করিয়ে, ছাদের সমস্ত সিমেন্ট নামানো হয়ে গেছে। গোটা বাসের জানালার কাচ তাই সিমেন্টে ভর্তি। ডামটায় বাস দাঁড় করিয়ে ড্রাইভার বাস থেকে নেমে পড়ে জানালো, এখানে দুপুরের খাবার খেয়ে নিতে। বাসের সকলে বাস থেকে নেমে পড়লো, আমরাও নামলাম। ডানদিকে দু’টো ছোট ছোট দোকান। এগুলোকে চায়ের দোকান বলাই উচিৎ। আর আছে একটা স্টেশনারি দোকান। এখানে কোথায় খাব, কী খাব, ভেবে পেলাম না। হঠাৎ একটা ডাকে, আমরা বাঁদিকে রাস্তার অনেকটা ওপরে তাকিয়ে দেখি, খুব সরু একটা পায়ে হাঁটা পথ, এঁকেবেঁকে ওপরে উঠে গেছে। বেশ কিছুটা ওপরে দু’টো দোকান। ঐ দোকানের কাছ থেকে আমাদের  বাসের ড্রাইভার আমাদের হাত নেড়ে ডেকে, ওপরে চলে আসতে বলছে। আমরা পায়ে হাঁটা সরু রাস্তা ভেঙ্গে ওপরে উঠে গেলাম। ছোট একটা হোটেল। ড্রাইভার জিজ্ঞাসা করলো, “মাছ খাবেন? আপনারা তো বাঙালি? এখানে যমুনার টাটকা মাছ পাবেন”। আমরা প্রায় দিন কুড়ি মাছের মুখ দেখিনি। আমি নিজে মাছ যে খুব একটা ভালোবাসি তা নয়। বিশেষ বিশেষ কয়েক ধরণের মাছ আমার প্রিয়, এই পর্যন্ত। এখানে এতটুকু একটা দোকানে, অচেনা মাছ খাওয়ার খুব একটা ইচ্ছাও ছিল না। কিন্তু আমার সঙ্গী দু’জন মাছের কথায়, বেড়ালের মতো লাফিয়ে উঠলো। দোকানদার জানালো, বেশ বড় বড় মাছ যমুনার জলে পাওয়া যায়, তবে আমাদের ভাগ্য খারাপ, আজ খুব ভালো ও বড় মাছ পাওয়া যায় নি। মাছের দাম তিন টাকা প্লেট। কথায় কথায় দোকানদার এখানে এই নদী থেকে, মাছ ধরার বিশেষ কায়দাটা জানালো। এখানে নদীর স্রোত বেশ ভালো। নদীর দু’দিকে বেশ খানিকটা অংশ জাল বা ঐ জাতীয় কিছু দিয়ে, মাছ চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে কোন মাছ ঐ জালের বাইরে পালিয়ে যেতে না পারে। এরপর একরকম গাছের পাতা থেঁতো করে, ঐ দু’ই জালের মাঝখানে ফেলে দেওয়া হয়। ঐ পাতার গন্ধে দুই জালের মধ্যে আটকে পরা সমস্ত মাছ ভেসে ওঠে। ঐ খরস্রোতা নদীতে গাছের পাতা থেঁতো করে দিলে, তা সঙ্গে সঙ্গে জলের স্রোতে বয়ে চলে যাওয়া উচিৎ। কাজেই তার গন্ধে মাছ কিভাবে ভেসে ওঠে ঠিক বুঝলাম না। হয়তো গন্ধে নয়, বিষক্রিয়ায় মাছ মরে ভেসে ওঠে। তবু এ যুক্তিও যেন খুব গ্রহণযোগ্য বলে মনে হ’ল না। যাহোক্, তিন প্লেট মাছ ও ভাত নেওয়া হ’ল। প্রত্যেককে একটা করে মাছ, টুকরো করে পাঁচ-ছয় টুকরো করে দেওয়া হ’ল। মাছটা দেখে এবং খেয়ে, এখানকার মাগুর মাছের সঙ্গে মিল আছে বলে মনে হ’ল। আমি দু’টুকরো মাছ নিয়ে বাকিটা বন্ধুদের দিয়ে দিলাম। ওরা খুব তৃপ্তি করে সব মাছ ভাত সাবাড় করে দিল। হোটেলের এগার টাকা বিল মিটিয়ে, নীচে বাসে এসে বসলাম। ড্রাইভারও কিছুক্ষণের মধ্যে বাসে এসে বসলো। এতক্ষণের রাস্তায় ড্রাইভারকে একটাও সিগারেট খেতে দেখিনি। তাকে একটা সিগারেট অফার করায়, সে জানালো যে সে স্মোক করে না। বাস ছেড়ে দিল। রাস্তা বেশ ভালো হওয়ায়, বাস বেশ ভালো গতিতে এগিয়ে চললো। ড্রাইভার জানালো, বাস ঠিক সময় দেরাদুন পৌঁছে যাবে। তা যে যাবে, আমরাও বেশ বুঝতে পারছি, কারণ কোন প্যাসেঞ্জার বাস থেকে নামতে দেরি করলে, ড্রাইভার বিরক্ত হচ্ছে। অনেক সময় রাস্তায় প্যাসেঞ্জারের হাত দেখানো উপেক্ষা করে বাস না থামিয়ে, ড্রাইভার বাস নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। রাস্তায় বাস যত কম সময় দাঁড়ায়, ততই আমাদের পক্ষে মঙ্গল। কিন্তু আরও খানিকটা পথ এগিয়ে আবার অঘটন। প্রত্যেকবার রাস্তায় কোনো না কোন ঝামেলার মধ্যে আমাদের পড়তেই হচ্ছে। এখানে লোক নামানোর জন্য বাস দাঁড় করানোর পর, বাস আর নতুন করে কিছুতেই এগিয়ে যেতে পারছে না। অনেকক্ষণ চেষ্টার পর যদিও বাস ছাড়লো, কিন্তু কোথাও বাস দাঁড় করালেই, নতুন করে বাস এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ড্রাইভার-কন্ডাক্টারের আলোচনায় মনে হ’ল, গীয়ারে কোন অসুবিধা দেখা দিয়েছে, গীয়ার ঠিক মতো কাজ করছে না।

বাসের যন্ত্রপাতির কিছুই বুঝি না। মনে বড় ভয় হ’ল, বাস ঠিক সময় দেরাদুন না পৌঁছলে, আজ আর দুন এক্সপ্রেস ধরা যাবে না। এর আগে আমরা একবার দেরাদুন এসে, “ওরিয়েন্টাল হোটেল” নামে একটা হোটেলে উঠেছিলাম। মাধব বললো, আজ রাতটা ঐ হোটেলে উঠে, আগামী কাল নাহয় দুন এক্সপ্রেসে হাওড়া রওনা হওয়া যাবে। এবার আমরা ঠিক করেছিলাম, সমস্ত জায়গা ঘুরে, ফিরবার সময় হরিদ্বারে দিনকতক রেষ্ট নিয়ে হাওড়া ফিরবো। রেষ্ট মানে কমপ্লিট্ রেষ্ট। ভালোমন্দ খাওয়া দাওয়া করবো, আর নিশ্চিন্তে ঘুমাব। সন্ধ্যাবেলা হর কী পেয়ারীতে গিয়ে আরতি দেখে, বসে বসে গল্প করে সময় কাটাবো। এই উদ্দেশ্যে মাধব একসেট পায়জামা পাঞ্জাবীও সঙ্গে নিয়ে এসেছে। কিন্তু এখন বুঝছি বাড়ির টান, নাড়ীর টানের মতোই প্রবল। এখন আর আমাদের কোথাও যাবার ইচ্ছা নেই। এখন শুধু একটাই চিন্তা, কখন বাড়ি ফিরবো। কাজেই দেরাদুন থাকতে হতে পারে ভেবে, মন বেশ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

বাস পাকা রাস্তা ছেড়ে এবার সরু এবং খুব খারাপ কাঁচা রাস্তায় পড়লো। বেশ কিছুক্ষণ এই রাস্তায় চলার পরে, হঠাৎ পিছনের বাঁদিকের চাকার টায়ার বিকট আওয়াজ করে ফেটে গেল। ব্যাস হয়ে গেল দুন এক্সপ্রেসে বাড়ি ফেরা। ড্রাইভার কিন্তু ঐ অবস্থায় বাস নিয়ে এগিয়ে চললো। এই রাস্তায় এই অবস্থায় বাস চালিয়ে নিয়ে যাওয়া কতটা বিপজ্জনক একবারও না ভেবে, ড্রাইভারের সাহসিকতা ও কর্মনিষ্ঠায় পুলকিত হয়ে আমরা চিন্তামুক্ত হলাম। এই অবস্থায় কোনরকমে দেরাদুন পৌঁছলে বাঁচা যায়। খুব খারাপ রাস্তা দিয়ে খানিকটা এগিয়ে এসে, ড্রাইভার এক জায়গায় বাসটাকে দাঁড় করালো। জায়গাটা মুসৌরী থেকে খুব একটা দুরে নয় বলে শুনলাম। এখানে একটা স্টেট বাসের বেশ বড় গ্যারেজ মতো আছে। বেশ কয়েকটা স্টেট বাস এই গ্যারেজে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের বাসটা এখানে গীয়ার মেরামত ও টায়ার পাল্টাতে দাঁড়ালো। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার, এখানে কেউ আমাদের বাসটাকে চাকা খুলবার জন্য জ্যাক দিতে রাজি হ’ল না। প্রত্যেক বাসই আমাদের বাসের ড্রাইভারের কাছে মদ খাবার জন্য কিছু টাকা চাইলো। বিনিময়ে তারা, তাদের বাসের জ্যাকটা দেবে, আমাদের বাসটাকে মাটি থেকে উচু করে চাকা পাল্টাবার জন্য। এখানে দাঁড়িয়ে থাকা সবকটা বাসই স্টেট বাস, গ্যারেজটাও স্টেট বাসের, অথচ এরা নিজেদের মধ্যে কিরকম ঘুষ চায়, দেখে অবাক হয়ে গেলাম। এলাকাটাও মদ্যপান নিষিদ্ধ এলাকা বলে ঘোষিত বলে আগেই শুনে এসেছি। আমাদের ড্রাইভার আবার মদ তো অনেক দুরের কথা, বিড়ি সিগারেট পর্যন্ত খায় না। সে ভীষণ উত্তেজিত হয়ে এর প্রতিবাদ শুরু করলো। কিন্তু একটা বাসও একে জ্যাকটা দিয়ে সাহায্য করলো না। আমাদের বাসে আবার নিজস্ব কোন জ্যাক না থাকায়, বাসটা চুপচাপ দাঁড়িয়েই রইলো। একবার ভাবলাম নিজেদের স্বার্থে, পকেট থেকে কিছু টাকা দিয়ে ঝামেলাটা মিটিয়ে ফেলি। কিন্তু ড্রাইভারের রূপ দেখে, সে প্রস্তাব দিতে সাহস হ’ল না। সমস্ত প্যাসেঞ্জার বাস থেকে নেমে পড়েছে। বেশির ভাগই স্থানীয় লোক। আশ্চর্য, এরা সবাই এ ঘটনার প্রতিবাদ করার থেকে, আমাদের বাসে কেন জ্যাক নেই, তাই নিয়ে হৈচৈ করতে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করলো। এই সময় একটা বাস আমাদের উল্টোদিকে যাবার সময়, এখানে এসে দাঁড়ালো। বাসটা বোধহয় মুসৌরী বা দেরাদুন থেকে আসছে। এই বাসের ড্রাইভার বোধহয়, আমাদের বাসের ড্রাইভারের বন্ধু হবে। সে সব কথা শুনে বললো, সে ফিরে আসার সময় জ্যাক নিয়ে আসবে। বাসটা চলে গেল। জানিনা তার গন্তব্য স্থল কতদুর। আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম, দুরে আস্তে আস্তে বহু নীচে একটা ব্রিজ পার হয়ে, বাসটা অদৃশ্য হয়ে গেল। প্রায় আধ ঘন্টা কেটে গেল, বাসটা আর ফিরে আসে না। এমন এক জায়গায় এসে পড়েছি যে, ঐ বাসটা না আসলে হয়তো আমাদের এই গ্যারেজে বাসে বসেই রাত কাটাতে হবে। আরও বেশ কিছুক্ষণ পরে সব চিন্তার অবসান ঘটিয়ে, সেই ত্রাতা বাসটা ফিরে এল। এবার আমাদের বাসের মেরামতির কাজ শুরু হ’ল। আরও বেশ কিছু সময় পরে, আমাদের ড্রাইভার, গ্যারেজ ও অন্যান্য বাসের কর্মীদের ছেড়ে, তাদের মা ও মাসির উদ্দেশ্যে চোখাচোখা গালিগালাজ করতে করতে, বাস ছেড়ে দিল।

এইরকম বিপজ্জনক পথে এরা নিজেদের মধ্যে এত অসহযোগিতা নিয়ে কিভাবে বাস চালায় জানিনা। খারাপ, খুবই খারাপ রাস্তায় আমরা চলেছি। একবারে কাঁচা, ভাঙ্গা রাস্তা। হঠাৎ অনেক দুরে বাঁহাতে, রাস্তা থেকে অনেক নীচে, অনেক লোকজনের ভিড় নজরে এল। ড্রাইভার কিন্তু আমাদের সাথে খুব ভালো ব্যবহার করছে। অথচ সে তার বাসের কন্ডাক্টারের সাথেও, খুব চড়া সুরে কথা বলছে। সামনে অত লোকের ভিড় দেখে, আমরা আবার নতুন কোন বিপদের আশঙ্কায় ভেঙ্গে পড়লাম। ড্রাইভার জানালো, ওটা কেম্পটি ফলস্। কেম্পটি ফলস্, অর্থাৎ আমরা মুসৌরী এসে গেছি। দেখতে দেখতে কেম্পটি ফলস্ খুব কাছে এসে গেল। সমস্ত লোকজনকে পরিস্কার দেখা যাচ্ছে। চারিদিকে গাড়ির ভিড়। ঐ তো একবারে কাছে সুন্দরী ঝরনাটা নেমে এসে, দু’ভাগে ভাগ হয়ে, আবার কেমন এক হয়ে গেছে। ইচ্ছা ছিল ড্রাইভারকে বলে বাসটা একবার দাঁড় করিয়ে, ঝরনাটার ছবি নেবার। আমরা বললে সে রাজি হবে জেনেও, আর ফটো তোলার জন্য বাস দাঁড় করাবার কথা বলতে খারাপ লাগলো। দেখতে দেখতে বাস মুসৌরী এসে গেল। আমরা তিনজন আর পিছনে একজন ছাড়া, বাসের আর সব যাত্রী নেমে গেল। ড্রাইভার জানালো, বাস এখনি ছেড়ে দেবে। তাই আর নীচে নেমে দাঁড়ালাম না। বাসে বসে বসেই জানালা দিয়ে মুসৌরীর একটা ছবি তুললাম। বাস আর ছাড়ে না। বাস ছাড়তে দেরি হচ্ছে দেখে ড্রাইভারকে বললাম, একটু চা খেয়ে আসবার কথা। সে আমাদের তাড়াতাড়ি বাসে ফিরে আসতে বললো। একটু এগিয়ে একটা দোকানে চা বিস্কুট খেয়ে, বাসের কাছে ফিরে এসে, বাসের ছাদ থেকে মালপত্র নামিয়ে, বাসের মধ্যে নিয়ে আসলাম। বাস ছেড়ে দিল। অনেক লোক দেরাদুন যাবার জন্য ছুটে আসলো। ড্রাইভার জানালো বাস খারাপ আছে, পরের বাসে আসতে। এবার বাস খুব দ্রুত দেরাদুনের দিকে এগিয়ে চললো। রাস্তায় অপেক্ষারত সমস্ত প্যাসেঞ্জারকেই ড্রাইভার একই কথা বলে, বাস না থামিয়ে দেরাদুনের পথে এগিয়ে চললো। আমাদের চারজনকে নিয়ে এত বড় বাসটা, কোন প্যাসেঞ্জার না তুলে কেন ফাঁকা চলেছে, বোধগম্য হ’ল না। আমাদের ভালোই, টিকিট পেলে আজই ফিরবার ট্রেন ধরতে পারবো।

MUSSOORIEমুসৌরী

বিকেল বেলায় আমরা দেরাদুনের পরিচিত জায়গায় এসে নামলাম। দিলীপকে মালপত্র নিয়ে রাস্তাতেই দাঁড় করিয়ে, আমি আর মাধব ছুটলাম রেলওয়ে স্টেশনে। কাউন্টারে জনা দশেকের লাইন। আমরা ফর্ম ভর্তি করে রিজার্ভেশনের আশায় লাইনে দাঁড়ালাম। জানা গেল এখনও অনেক বার্থ খালি আছে, কাজেই রিজার্ভেশন পাওয়া যাবে। জনা দু’এককে টিকিট দিয়েই কাউন্টারের কর্মচারীটি জানালেন, কাউন্টার বন্ধ করার সময় হয়ে গেছে, গাড়িতে উঠে রিজার্ভেশন করে নিতে হবে। যদিও বুঝতে পারছি ট্রেনে উঠেও বার্থ রিজার্ভেশন সহজেই পাওয়া যাবে, তবু যদি শেষ পর্যন্ত কোন অসুবিধা হয়, যদি তখন বার্থ না পাই? এই শরীরে দু’রাত্রির পথ যেতে খুব কষ্ট হবে। তাই এক মুহুর্ত সময় নষ্ট না করে, সরাসরি কাউন্টারের কর্মচারীটিকে হাত জোড় করে আমাদের অবস্থার কথা বলে, রিজার্ভেশন করে দেবার জন্য অনুরোধ করলাম। ভদ্রলোক কী ভাবলেন কে জানে, তিনি কাউন্টার বন্ধ করতে গিয়েও বন্ধ করলেন না। ততক্ষণে সবাই কাউন্টার ছেড়ে চলে গেছে। কর্মচারীটি আমাদের কাছে ফর্মটি চাইতেই, আমাদের সামনের একজন, তার ফর্মটা এগিয়ে দিল। ভদ্রলোক কোন কথা না বলে ঐ ব্যক্তির রিজার্ভেশন করে দিয়ে, আমাদের রিজার্ভেশন করে দিলেন। আমরা জানালার ধারের ওপর নীচের দু’টো এবং পাশের যে কোন একটা বার্থ চাইলাম। ভদ্রলোক আমাদের পছন্দ মতো বার্থই দিলেন। কোন কিছু কেনাকাটা করা আর হ’ল না। তিনটে টিকিটের ভাড়া ও রিজার্ভেশন চার্জ বাবদ, ১৯২ টাকা দিতে হ’ল।

আজ সেপ্টেম্বরের ছয় তারিখ। গাড়ি ছুটছে। পরশু, অর্থাৎ আট তারিখে আমরা বাড়ি ফিরছি। ওঃ! কী যে শান্তি। বাড়ির প্রতি টান যে কী সাঙ্ঘাতিক, এখন বুঝতে পারছি। যদিও জানি বাড়ি ফিরলে আবার পাহাড়ের টানে দিন গুণতে হবে। দিলীপ রাস্তায় একটা নখকনুই দাঁত দিয়ে টেনে ছিঁড়েছিল। এখন দেখছি ওর হাত বেশ ভালোই ফুলেছে। গায়ে হাত দিয়ে মনে হ’ল, জ্বরও আছে। ও জানালার ধারের ওপর নীচের দু’টো বার্থের একটাতেও না শুয়ে, পাশের আপার বার্থটায় উঠে শুয়ে পড়লো। একগাদা কলা কিনেছিলাম। আমি আর মাধব তার কয়েকটা উদরস্থ করে, হিসাব নিয়ে বসলাম। কিন্তু কিছুতেই হিসাব মেলাতে পারছি না। হিসাব মতো হাতে সাত টাকা ছিয়ানব্বই পয়সা একসেস্ থেকে যাচ্ছে। পাশ থেকে এক ভদ্রলোক বললেন, হিসাব মেলাচ্ছেন? ওটা কোনদিন মেলে না। আমরা হেসে, হিসাব নিকাশ বন্ধ করে রাখলাম। শুধু হিসাব করে দেখলাম, আমাদের এই টুরে জুতো, ওয়াটার প্রুফ, ওয়াটার বটল্, ইত্যাদি কেনার খরচ বাদ দিয়ে, এক একজনের, সাত শত ছিয়াত্তর টাকা ঊনত্রিশ পয়সা করে খরচ হয়েছে, আর প্রায় ২২৫ কিলোমিটার মতো হাঁটতে হয়েছে। ( গোবিন্দ ঘাট—হেমকুন্ড ১৮.৫ কি.মি.+ হেমকুন্ড—ভ্যালি অফ্ ফ্লাওয়ার্স ৮.৫ কি.মি.+ ভ্যালি অফ্ ফ্লাওয়ার্স—ঘাংরিয়া ৩.৫ কি.মি.+ ঘাংরিয়া—ভ্যালি অফ্ ফাওয়ার্স ৫ কি.মি.+ ভ্যালি অফ্ ফ্লাওয়ার্স—গোবিন্দ ঘাট ১৮ কি.মি.+ বদ্রীনারায়ণ—বসুধারা ৮ কি.মি.+ বসুধারা—বদ্রীনারায়ণ ৮ কি.মি.+ শোণপ্রয়াগ—ত্রিযুগী নারায়ণ ৫ কি.মি.+ ত্রিযুগী নারায়ণ—শোণপ্রয়াগ ৫ কি.মি.+ গৌরীকুন্ড—কেদারনাথ ১৪ কি.মি.+ কেদারনাথ—গৌরীকুন্ড ১৪ কি.মি.+ ভুখি—ডাবরানী ১৩ কি.মি.+ লঙ্কা—ভৈরবঘাঁটি ৩ কি.মি.+ গঙ্গোত্রী—গোমুখ ১৮ কি.মি.+ গোমুখ—লঙ্কা ২৮ কি.মি.+ ডাবরানী—ভুখি ১৩ কি.মি.+ সায়নাচট্টি—যমুনোত্রী ২১ কি.মি.+ যমুনোত্রী—সায়নাচট্টি ২১ কি.মি. = মোট ২২৪.৫ কি.মি.)।

আজ সেপ্টেম্বরের আট তারিখ। বাড়ি ফিরে এসেছি। খুব ব্যস্ত। হাতে সময় খুব অল্প। স্নান সেরে, মা’র হাতের রান্না করা ভাত, ডাল, তরকারী, মাছের ঝোল খেয়ে অফিস যেতে হবে। বাড়ির লোকজনের সাথে অল্প কথায় সমস্ত খবরাখবর দেওয়া নেওয়া সেরে, গায়ের মোটা কালো নোংরা পরিস্কার করতে, বাথরুমে ঢুকলাম।

                                                 ————-O————

Advertisements

2 thoughts on “পাহাড়ের রোজনামচা– চতুর্দশ পর্ব {লেখাটি www.amaderchhuti.com ও TOUR & TOURISTS পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত।}

  1. বাঃ দারুন ভালো লাগলো। তোমার ভ্রমন কাহিনীর সব পর্বগুলো পড়ে ফেল্লাম।অনেক কষ্টসাধ্য ভ্রমন ,কিন্তু লেখাটা পড়তে পড়তে আমিও মনের চোখ দিয়ে ওই সব পবিত্র দুর্গম জায়গায় ঘুরে এলাম।ধন্যবাদ এই রকম সুন্দর একটা ভ্রমন কাহিনী উপহার দেবার জন্য।আমার তো স্টক শেষের পথে।এবার কি হবে??আরও পাব তো??

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s