পাহাড়ের রোজনামচা– ত্রয়োদশ পর্ব {লেখাটি www.amaderchhuti.com ও TOUR & TOURISTS পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত।}

DSCN9767এপথের একটা সুন্দর ব্যবস্থা, বাসে যতই ভিড় হোক না কেন, বাস ছাড়ার আগে বাসের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবেই। আমাদের এই বাসটায় একটাই মাত্র দরজা, এবং সেটা একদম সামনের দিকে। পিছন দিকে কোন দরজা না থাকায়, আমার ও মাধবের ঠিক সামনে, দরজার পরিবর্তে একটা দু’জন বসার চেয়ার সিট করা হয়েছে। এই সিটটায় দু’জন লোক বসে আছে। একটু পরেই দেখি অন্য একজন লোক কিভাবে ম্যানেজ করে, ঐ সিটটার জানালার ধারে দিব্বি নিজের বসার ব্যবস্থা করে নিল। বাসে কোথাও একটু দাঁড়াবার জায়গা পর্যন্ত নেই। পিলপিল্ করে লোক বাসের ছাদে উঠছে। কল্যানদা একবার আমাদের সিটের পাশে জানালার কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, সিট মিলেছে তো? আমরা অবাক হয়ে গেলাম। ওর সাথে আমাদের কতটুকুই বা পরিচয়। বললাম হ্যাঁ মিলেছে। কল্যানদা বললেন বাস ছেড়ে দিই? আমরা বাস ছেড়ে দিতে বললাম। বুঝলাম না বাসে এত লোক থাকতে, উনি হঠাৎ আমাদেরই বা কেন জিজ্ঞাসা করলেন। কন্ডাক্টার কিন্তু এত ভিড়েও ঠিক কায়দা করে বাসের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। বাসের ছাদে এত লোক উঠছে যে ভয় হচ্ছে, আমাদের সুটকেস বা হোল্ড্-অল্ গুলো, লোকে বসে বা পায়ের চাপে নষ্ট না করে দেয়। যাহোক্, এবার বাস ছেড়ে দিল। কোথাও একটু বাস দাঁড়ালেই, একগাদা করে লোক বাসের ছাদে উঠছে। এত লোক কোথায় ছিল জানিনা। মাধব আর আমি মাঝে মাঝে জানালা দিয়ে শরীরের অনেকটা অংশ বার করে বাসের ছাদে আমাদের লাগেজ ঠিক আছে কী না লক্ষ্য করছি। একবার দেখলাম দু’টো সুটকেস ছাদের একপাশে দাঁড় করানো আছে। অর্থাৎ কেউ ওগুলো ওখানে সরিয়ে রেখেছে। আকাশে প্রচন্ঢ মেঘ করেছে, সঙ্গে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। একটাই ভয় হচ্ছে, হোল্ড্-অল্ গুলো পলিথিনে মোড়া, কিন্তু বৃষ্টি হলে সুটকেসগুলো ভিজবে, আর মাধবের কাছে গালাগালি খেতে হবে। তা খেতে হলেও এখন আর আমার কোন দুঃখ নেই, কারণ এখন এটা নিশ্চিত যে আমরা এবারের শেষ গন্তব্যস্থল, যমুনোত্রী যাচ্ছিই।

হঠাৎ দিলীপের পাশের মহিলার কোলে বসা সেই মেয়েটা, উল্টি, অর্থাৎ বমি করবে বলে জানালো। আমি দিলীপকে বললাম, খুব গম্ভীর হয়ে চোখ পাকিয়ে ওদের দিকে তাকাতে, তা নাহলে মেয়েটা আমাদের গায়েই উল্টি করবে। মহিলাটিকে বললাম, মেয়েটাকে ডানপাশে জানালার ধারে দাঁড় করিয়ে দিতে। মেয়েটা কাঁদতে এবং ঘামতে শুরু করলেও, নিজের জায়গা ছেড়ে নড়লো না এবং একটু পরেই মহিলাটির কোলে বমি করলো। আমাদের সামনের চেয়ার সিটের একজন, নিজের সিটটা ছেড়ে দিয়ে তাকে বসতে বললো। কিন্তু মেয়েটার বোধহয় ইচ্ছা, কোথাও না গিয়ে আমাদের গায়েই বমি করা। বাধ্য হয়ে মহিলাটিকে খুব মেজাজ দেখিয়ে, সামনের সিটে জানালার ধারে পাঠাতে বললাম। কিন্তু ওরা নীরব। এদিকে মেয়েটা একভাবে কেঁদে যাচ্ছে ও মাঝে মাঝে বমি করার মতো ওয়াক্ ওয়াক্ করে আওয়াজ করে যাচ্ছে। সামনের সিটের সেই ম্যানেজ করে জানালার ধারে বসা লোকটা আমাদের বললো, আমাদের জায়গা ছেড়ে দিয়ে ওকে জানালার ধারে বসতে দেওয়া উচিৎ। দিলীপ তাকে ধমকে চুপ করিয়ে দিয়ে বললো, “তোমার যদি এত দয়া, তবে তুমি তোমার সিটটা ছেড়ে দিয়ে ওকে বসতে দাও না”। লোকটা বিপদের আঁচ পেয়ে চুপ করে গেল। মনে হ’ল দিলীপের হিন্দী বলার ক্ষমতাই, এক্ষেত্রে লোকটাকে চুপ করাতে সাহায্য করেছে। ইতিমধ্যে কন্ডাক্টার এসে টিকিট দিয়ে ভাড়া নিয়ে গেল।। তিনজনের মোট ন’টাকা ভাড়া লাগলো। সন্ধ্যা অনেকক্ষণ পার হয়ে গেছে। বেশ অন্ধকার নেমে এসেছে। প্রতিমুহুর্তে মনে হচ্ছে, এই বোধহয় বৃষ্টি শুরু হ’ল। একসময় একটা ঝরনার তলা দিয়ে বাসটা গেল। পাহাড়ের একটা অংশ রাস্তার উপর ছাদের মতো ঝুলে আছে, আর সেইখান থেকেই খুব জোরে রাস্তায় জল পড়ছে। কিন্তু সেটা খুব সামান্য জায়গা জুড়ে হওয়ায়, বাসের ছাদে জল পড়ে জানালা ভিজিয়ে দিলেও, মালপত্রের খুব একটা ক্ষতি হবে বলে মনে হয় না। এইভাবে এক সময় বেশ অন্ধকারে বাস এসে সায়নাচট্টি উপস্থিত হ’ল।

চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। বাস থেকে নেমেই দু’জন বাঙালি ভদ্রলোকের সাথে আলাপ হ’ল। এই বাসে আমরা তিনজনই একমাত্র টুরিষ্ট। আর সকলেই স্থানীয় বা আশেপাশের বাসিন্দা, কেউ কেউ হয়তো কাজেও এসে থাকতে পারে। ভদ্রলোক দু’জন একটা কুলি ডেকে, আমাদের ট্রাভেলার্স লজে নিয়ে গেলেন। এখানকার ট্রাভেলার্স লজে দেখলাম অনেকগুলো ঘর আছে। ব্যবস্থাও, এখন পর্যন্ত যতগুলো টুরিষ্ট লজ বা ট্রাভেলার্স লজে উঠেছি, তার মধ্যে সবথেকে ভাল। আমরা একটা তিন শয্যা বিশিষ্ট ঘর নিলাম। এই ভদ্রলোকরাও দেখলাম সংখ্যায় তিনজন। আমাদের ঘরের দু’একটা ঘর পরেই, ওদের ঘর। একটু পরে ওদের ঘরে গেলাম খোঁজখবর নিতে। একজন ডায়েরি লিখছেন বলে মনে হ’ল। আলাপ করে জানলাম, ওরা জিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার কর্মচারী। অফিসের কাজেই এদিকে এসেছেন, এবং এই ফাঁকে যমুনোত্রী দেখে, গঙ্গোত্রী যাবার ধান্দায় আছেন। গত দু’দিন কোন বাস না আসায়, ওদেরও আমাদের মতোই অবস্থা। তাই আজ বাস আসতে ওরা আনন্দে ছুটে গিয়েছিলেন। যমুনোত্রী ওদের ভালো লাগেনি। আমাদের কাছে হেমকুন্ড ও নন্দন কাননের কথা শুনে, ওরা ঐ দু’টো জায়গায় যাবার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। আমরা নিজেদের ঘরে ফিরে এসে মালপত্র গুছিয়ে রাখলাম। বাসে আসবার সময় ছাদে অত লোক উঠতে দেখে, কী ভয়টাই না পেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম সুটকেসগুলো বোধহয় আর বাড়ি ফিরে যেতে পারবে না। কিন্তু আশ্চর্য, একটা পায়ের দাগ পর্যন্ত কোন লাগেজে পড়ে নি। ওরা মালপত্র সাবধানে সরিয়ে রেখে ছাদে বসছিল। বলতে লজ্জা করলেও, সত্যি কথা বললে বলতেই হবে, আমি হলে হয়তো সুটকেসের ওপরেই আরাম করে বসতাম। বিশেষ করে যেখানে কোন দেখার বা বলার লোক নেই। আকাশে মেঘ থাকলেও, বৃষ্টির নামগন্ধ নেই। আমরা তিনজনে ঘুটঘুটে অন্ধকারে, খানিকটা মাঠের মতো ফাঁকা জায়গা পেরিয়ে, ডান হাতে একটা চায়ের দোকানে চা খেয়ে, রাতের খাবারের কথা জিজ্ঞাসা করলাম। একজন যুবক দোকানটা চালায়। সে জানালো যে, সে আমাদের ঘরে খাবার পৌঁছে দিয়ে আসবে। আমরা জানালাম, আমরা নিজেরাই আসবো। ঘরে ফিরে এসে, যে যার খাটে আরামে শুয়ে থাকলাম। লোহার খাটে, স্পঞ্জের গদি। অনেকদিন বাদে নিশ্চিন্তে ঘুমনো যাবে। দিলীপের খাটটার একটা ঠ্যাং আবার নড়বড়ে, কোথাও শান্তি নেই। রাত প্রায় ন’টা নাগাদ তিনজনে দোকানে গিয়ে ডাল, তরকারী ও রুটি খেয়ে, ঘরে ফিরে এলাম। আগামীকালের প্রয়োজনীয় টুকিটাকি জিনিস কাঁধের ঝোলা ব্যাগে গুছিয়ে নিয়ে, যাবার প্রস্তুতি শেষ করলাম। এরপর পরম আরামে দু’চোখের পাতা বুজে শুয়ে রইলাম।

আজ সেপ্টেম্বর মাসের চার তারিখ। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে সমস্ত মালপত্র ট্রাভেলার্স লজের ক্লোক রুমে রেখে দিলাম। আজ আমরা যমুনোত্রী যাব। আজ আর ফিরবো না। কাজেই শুধু শুধু ঘরভাড়া গোনার কোন মানে হয় না। গতরাতের জন্য আঠারো টাকা ভাড়া মিটিয়ে, মালপত্র একজন অল্পবয়সি কেয়ারটেকারের কাছে জমা দিয়ে, আমরা গতরাতের চায়ের দোকানে এলাম, চা খেতে। এখানে এসে দেখলাম সামনে একটা বড় বোর্ড লাগানো আছে।

                                          K.Metre               Height in Metre

Hunuman Chati                      8                             2124

Phul Chati                             13                             2453

Janaki Chati                          16                             2575

Jamunatri                               21                             3185

 আগে হনুমান চটি পর্যন্ত জীপ ও বাস যেত। এখন যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থাৎ এখানেও আমাদের যাতায়াতে ৮+৮=১৬ কিলোমিটার পথ, অতিরিক্ত হাঁটতে হবে। চায়ের দোকানে জানা গেল, যদি বাস রাস্তা ধরে যাই, তাহলে হনুমান চটি আট কিলোমিটার পথ হাঁটতে হবে। আর যদি ডানদিকের হাঁটা পথে যাই, তবে দুই-আড়াই কিলোমিটার মতো পথ, কম হাঁটতে হবে। আমরা শেষ পর্যন্ত হাঁটা পথেই, আস্তে আস্তে হাঁটতে শুরু করলাম। রাস্তা মোটেই খাড়া নয়। ভোরের সূর্যালোকে প্রফুল্ল মনে আমরা ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছি। বন্ধুদের কথা বলতে পারবো না, তবে আমার মনে এখন এক অদ্ভুত প্রশান্তি। এবারও আমারই জয় হ’ল। যমুনোত্রী যাবার জন্য হাঁটা যখন শুরু করেছি, তখন যমুনোত্রী শুধু পৌঁছনোর অপেক্ষা মাত্র। একসময় হাঁটা পথ এসে বড় পাকা রাস্তায় মিশে গেল। আর কিছুটা এগিয়েই হনুমান চটি। গঙ্গোত্রী যাবার পথে লঙ্কায় এক দোকানদার, আমাদের হাতে একটা চিঠি দিয়ে, হনুমান চটির এক দোকানদারকে চিঠিটা দিয়ে দেবার জন্য অনুরোধ করেছিল। এখন সেই দোকানদারের খোঁজ করে, তার হাতে চিঠিটা দিলাম। দোকানে চা ও ঝুড়িভাজা খেয়ে রওনা হবার আগে, মাধব ও দিলীপ ঐ দোকানে ফেরার পথে রাত্রে থাকার ব্যবস্থাও পাকা করে ফেললো। দোকানদার খুব খুশি হয়ে রাজি হয়ে গেল। রাতে আমাদের জন্য সে চাপাটি ও তরকারী বানাবে বললো। আমিও এই উত্তম প্রস্তাবে সায় দিলাম বটে, তবে মনে একটা আশা, ঠিকমতো হাঁটতে পারলে, আজ রাতে সায়নাচট্টির ট্রাভেলার্স লজের নরম গদিতে শান্তির ঘুম কে আটকায়? আগে পথেও শুনেছি, এখানেও আবার সেই সাবধান বাণী শুনলাম যে, যমুনোত্রীতে একজন বাঙালী সাধুবাবা থাকেন। সবাই তাঁকে মাধব বাবা বলে। তিনি পথিকদের খিচুড়ি খাওয়ান। তবে সে খিচুড়ি না খাওয়াই ভাল, কারণ ঐ খিচুড়ি খেলেই নাকি হজমের গন্ডোগোল হয়। অত কষ্টকর জায়গায় কষ্ট করে থেকে, নিজের গ্যাঁটের কড়ি খরচা করে, কেন তিনি যাত্রীদের অসুস্থ করার ব্রত নিয়ে ওখানে পড়ে আছেন জানিনা। জানিনা এই গল্পটা এত প্রচারই বা পেল কী ভাবে। তবে সাবধানের মার নেই। আমরাও ঠিক করলাম, মাধব বাবার কাছে কিছু খাব না। আস্তে আস্তে একসময় “ফুল চটি” এসে পৌঁছলাম। রাস্তা হনুমান চটি থেকে পাঁচ কিলোমিটার। রাস্তা আস্তে আস্তে ওপরে উঠে আবার নীচে নেমে এসেছে। অর্থাৎ আমরা একুশ কিলোমিটার পথের, তের কিলোমিটার পথ শুধু হেঁটেই এলাম, উচ্চতায় কিন্তু অতি সামান্যই উঠেছি। বুঝতে পারছি এ রাস্তার শেষে বেশ ভোগান্তি আছে। শেষ পাঁচ কিলোমিটার পথ হেঁটে, আমরা মাত্র ৩২৯ মিটার উচ্চতায় উঠেছি। অথচ রাস্তা কিন্তু কোথাও সমতল ছিল না। তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই, কারণ আমরা বেশ ভালো গতিতেই এগচ্ছি। আঁকাবাঁকা, চওড়া রাস্তা দিয়ে আমরা লক্ষ্যস্থলের দিকে এগিয়ে চলেছি। ডানহাতে অনেক নীচে যমুনা। এর চলার পথটা শক্ত পাথরের ওপর দিয়ে গেছে বলেই বোধহয়, এর জল এত পরিস্কার নীল। গঙ্গা গেছে নরম কাদামাটির পথ দিয়ে। গঙ্গার জলও তাই বেশ অপরিস্কার।

   WAY TO YOMUNOTRI (8)          WAY TO YOMUNOTRI (4)           WAY TO YOMUNOTRI (2)

                                                       যমুনোত্রী যাবার পথে

দেখতে দেখতে আমরা “জানকী চটি” এসে পৌঁছলাম। এখানে একটা টুরিষ্ট লজ্ থাকায়, রাতে থাকার বেশ ভালো ব্যবস্থা আছে। রাস্তার ডানপাশে একটা দোকান। এক বৃদ্ধ এই দোকানের মালিক। এখানে আমরা চা খেলাম এবং ফেরার পথে খাবার জন্য চাপাটি বানাতে বললাম। বৃদ্ধ একবার চাউলের কথা বললেও, আমরা তাঁকে চাপাটিই বানাতে বলে, রাস্তায় নামলাম। এখন পর্যন্ত রাস্তা বেশ আরাম দায়ক বললে ভুল বলা হবে না। কারণ রাস্তা কিছুটা ওপরে উঠে, আবার নীচের দিকে নামায়, খুব একটা কষ্টকর নয়। বৃদ্ধ দোকানদার জানালেন, আর মাত্র পাঁচ কিলোমিটার পথ বাকি আছে। এঁকেবেঁকে রাস্তা হেঁটে চলেছি। পথের সৌন্দর্য বলে কিছু নেই। সেই একঘেয়ে বন, লতাপাতা, পাথর, আর ডানদিকে বহু নীচে, নীল যমুনা। আমরা এতদিন বিভিন্ন জায়গায় যে সৌন্দর্য দু’চোখ ভরে দেখে এসেছি, তারপর এই জায়গা ভালো লাগার কথাও নয়। আরও পাঁচ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হবে। এবার কিন্তু হঠাৎ রাস্তা ওপর দিকে উঠতে শুরু করলো। আমরা যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি, তখন আকাশে রোদ ও ছায়ার খেলা শুরু হয়ে গেছে। মাধব ও দিলীপ বেশ হাঁপিয়ে পড়েছে। আমার অবস্থাও খুব শোচনীয়। তবু ওদের ফেলে আমি প্রায় ছুটেই বলা যায়, এগিয়ে গেলাম। কারণ আকাশে বেশ মেঘ করে আসছে। সমস্ত জায়গার অনেক ছবি তুলেছি। এখন এই শেষ জায়গার ছবি, মেঘ করলে আমাদের এই অতি সাধারণ ভারতীয় ক্যামেরায় তোলা যাবে বলে মনে হয় না। উঠলে্ও, সে ছবি ভালো হবে বলে মনে হয় না। অনেকক্ষণ একা একা এগচ্ছি। হঠাৎ রাস্তার ওপর ছোট একটা সাপকে দেখলাম, রাস্তার একপাশ থেকে অপর পাশে যাচ্ছে। আমার হাতের লাঠি দিয়ে ওটার পথরোধ করতেই, সে তার ছোট্ট ফণা তুলে দাঁড়িয়ে পড়লো। দেহ কিন্তু মাটি থেকে একটুও উঠছে না, শুধু মাথাটা সামান্য তুলছে। মনে হয় একবারে বাচ্চা। হঠাৎ ভয় হ’ল, এটার মা যদি প্রতিবাদ করতে আসে। লাঠির নালে ওটাকে আটকে নিয়ে, ছুড়ে অনেক নীচের যমুনায় ফেলে দিলাম। জানি এটা অন্যায় করলাম, কিন্তু এই পান্ডব বর্জিত জায়গায় এটা কাউকে ছোবল মারলে, তাকেই যমুনার পারে শেষকৃত্য করতে নিয়ে যেতে হবে। আবার নিজের পথ ধরলাম। এবার দেখছি রাস্তা, বোধহয় সত্তর ডিগ্রী অ্যাংগেলে, সিঁড়ির মতো উঠতে শুরু করেছে। এই রাস্তাতেও আমি সাধ্য মতো যত তাড়াতাড়ি পারা যায়, ওপরে উঠতে শুরু করলাম। বাড়ির সিঁড়ি যেমন প্রথম একদফা উঠে, বাঁক নিয়ে নতুন করে আর একদফা উঠতে হয়, আবার বেঁকে নতুন আর এক দফা, এই রাস্তাও ঠিক সেই ভাবে ওপরে উঠেছে। বেশ কয়েক পাক ওঠার পর, দুরে মন্দির দেখতে পেলাম। মন্দিরের মাথায় লাল পতাকা উড়ছে। মনটা আনন্দে নেচে উঠলো। চিৎকার করে সঙ্গীদের ডাকতে শুরু করলাম। ওরা কতটা পিছনে আছে জানিনা, কোন উত্তর আসলো না। মন্দিরে গেলাম। একজন বসে আছেন, বোধহয় পুরোহিত হবেন। তবে তাঁর কাছে প্রথম যেটা জানতে পারলাম, তাতে আমার হার্ট অ্যাটাক হবার উপক্রম। আমি তখন প্রায় জিভ বার করে কুকুরের মতো হাঁপাচ্ছি, সেই অবস্থায় শুনলাম, এটা যমুনোত্রী মন্দির নয়। যমুনোত্রী মন্দির এখান থেকে আরও প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে। কথাটা শুনে প্রথম অবস্থায় ভেঙ্গে পড়লেও, এখানে আর বৃথা সময় নষ্ট না করে, নতুন উদ্দমে এগতে শুরু করলাম। রাস্তা ঠিক একই ভাবে ওপরে উঠে যাচ্ছে। এত কষ্ট অন্য কোথাও বোধ হয়নি। রাস্তা আর শেষ হয় না। একভাবে চড়াই ভাঙ্গতে নিশ্বাসের কষ্ট হচ্ছে। শেষে অনেক দুরে, ছোট্ট যমুনোত্রী মন্দির চোখে পড়লো। ডান হাতে একটা ব্রিজ যমুনার ওপর দিয়ে গেছে। ব্রিজটা কিন্তু ভেঙ্গে গেছে। ব্রিজের দু’পাশেই গাছের ডালপালা দিয়ে, রাস্তা বন্ধের নির্দেশ। একটু বাঁপাশে অনেক নীচে, যমুনার ওপর দিয়ে একটা সাময়িক ব্রিজ তৈরি করা হয়েছে। ব্রিজটা গাছের ডাল দিয়ে তৈরি। এই ব্রিজটার ওপর দিয়ে হাঁটার সময়, ব্রিজটা বেশ লাফাচ্ছে। পড়ে গেলে আর কিছু না হোক্, হাত-পা ভাঙ্গার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। গাছের দু’টো মোটা ডালের ওপর, সরু সরু ডালপালা ফেলে, ওগুলো যাতে সরে না যায় তাই, মধ্যে মধ্যে পাথর ফেলে রাখা হয়েছে। পরে মনে হ’ল, এটা বোধহয় যমুনা নয়, কোন শাখা নদী। জানিনা এটার কী নাম। যাহোক্, ব্রিজ পার হয়ে আরও বেশ খানিকটা পথ এগিয়ে, মন্দিরের বেশ কাছে এসে দেখলাম, আরও একটা ব্রিজ। এই ব্রিজটা বোধহয় যমুনার ওপর দিয়েই গেছে। আমি যখন ব্রিজটার প্রায় এক চতুর্থাংশ পার হয়ে গেছি, তখন বাঁপাশ থেকে চিৎকার শুনে তাকালাম। দেখি বাঁপাশে বেশ খানিকটা নীচে মন্দির, এবং একজন হাত নেড়ে আমায় রাস্তা দেখাচ্ছে। আসলে মন্দিরে যেতে হলে, ব্রিজটা পার হতে হবে না। ঠিক ব্রিজটার আগে থেকে বাঁপাশে নেমে আসতে হবে। ফিরে এসে নীচে নেমে, মন্দির চত্বরে এসে হাজির হলাম। পাশ দিয়ে নদী বয়ে গেছে। বেশ কিছুক্ষণ পরে সঙ্গী দু’জন চলে এল। ওদের কাছে শুনলাম, ওরাও আমার মতোই আগের মন্দিরটাকে, যমুনোত্রী মন্দির ভেবেছিল। ইতিমধ্যে আমার কয়েকটা ছবি তোলা হয়ে গেছে। সব জায়গার ছবি বেশ ভালভাবে তুলতে পেরেছি বলে, বেশ ভালো লাগছে। এই ছবিগুলোই সারা জীবন স্মৃতি হয়ে থাকবে।

      YUMONOTRI          YOMUNOTRI           YOMUNOTRI TEMPLE (6)

                                                             যমুনোত্রী মন্দির

যমুনোত্রী মন্দির বলতে ছোট্ট একটা ঘর, সাদা দেওয়াল, ভিতরে যমুনার মুর্তি। যমুনোত্রীকে নিয়ে যতই হৈ-চৈ করা হোক্, যতই যাত্রী সেখানে যাক না কেন, মানুষ ও প্রকৃতি, উভয়ই তাকে উপেক্ষা করেছে, বঞ্চনা করেছে। মাধব বাবার সাথে পরিচয় হ’ল। তিনি আমাদের স্নান করে নিতে বললেন। একবারে মন্দিরের কাছে ছোট্ট একটা কুন্ড থেকে, গরম জল বার হচ্ছে। এখানকার কুন্ডের জল কিন্তু গঙ্গোত্রীর মতো হালকা গরম নয়। এই কুন্ডের জল এত গরম, যে ন্যাকড়া করে চাল ডাল বেঁধে জলে ফেলে দিয়ে ভাত, ডাল সিদ্ধ করা হয়। অনেকটা “মণিকরণ” এর মতো। জল ফুটলে যেমন টগবগ করে আওয়াজ হয়, এই কুন্ডের জল থেকে সেরকম একটা আওয়াজ হচ্ছে। ঐ তপ্ত কুন্ডের জল গড়িয়ে এসে একটু নীচে একটা চৌবাচ্চায় পড়ছে। এই চৌবাচ্চার জল অত গরম না হলেও, স্নান করা যায় না। এই দ্বিতীয় চৌবাচ্চা থেকে আরও নীচে, আর একটা চৌবাচ্চায়, জল গড়িয়ে পড়ছে। এই তৃতীয় চৌবাচ্চার জল খুব আরামদায়ক গরম। আমরা জামা প্যান্ট ছেড়ে, জলে নেমে পড়লাম। মাধব বাবা বললেন, তিনি খিচুড়ি তৈরি করছেন, আমরা যেন স্নান সেরে খাওয়াদাওয়া করে, যমুনোত্রী ত্যাগ করি। আমরা সবিনয়ে জানালাম যে আমরা রাস্তায় খেয়ে এসেছি, কাজেই এখন আমরা আর কিছুই খাব না। তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে, হঠাৎ জিজ্ঞাসা করলেন যে আমরা কোথায় খেয়েছি। একটু ইতস্তত করে বললাম, জানকী চটিতে। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, “তোমরা ওখানে কী খেয়ে এসেছ”? আমরা জানালাম যে আমরা ওখানে রুটি তরকারী খেয়েছি। তিনি বললেন তবে দু’টো খিচুড়ি খেয়েই যাও। এতো মহা মুশকিল, এক মাধবকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে অনেক কষ্টে রাজি করিয়ে, সব জায়গা ঘুরে এসে এখানে এলাম, তো আর এক মাধবের খপ্পরে পড়লাম। জয় মাধবায় নম। যাহোক্, শেষ পর্যন্ত তাঁকে রাজি করানো গেল। তিনি বললেন তবে চা করি। আমরা বারণ করলাম। তিনি বোধহয় এবার একটু দুঃখই পেলেন। বললেন, “এত দুরে এসে কিছু খাবে না”? আমরা জানালাম, এর জন্য তাঁকে ব্যস্ত হতে হবে না। যে জায়গাটায় স্নান করছি, তার পিছন দিকটায় মাধব বাবার মন্দির-কাম-আশ্রম। মাধব বাবার সাথে আমরা তাঁর আশ্রমে গেলাম। অনেক কথা হ’ল। উনি দেখলাম হাওড়া শিবপুরের প্রায় সমস্ত রাস্তা ঘাট চেনেন। এমনকী হাওড়া বাকসাড়া-ব্যাতরের কয়েকজনের নাম করে করে খোঁজখবর নিলেন। তারাও আগে যমুনোত্রী দেখতে এসেছিল। তাঁর কাছ থেকে জানতে পারলাম, যে তিনি প্রায় নয়-দশ বছর যমুনোত্রীতে আছেন। ভদ্রলোক বাঙালি। হয়তো সন্ন্যাসী হয়ে বাড়ি থেকে চলে এসেছিলেন।

এবার আমরা ওপরে যমুনোত্রী মন্দিরে গেলাম। পূজা হয়ে গেছে, তাই মন্দিরের দরজা বন্ধ। একজন এসে দরজা খুলে দিল। মাধব ও দিলীপ ঠাকুর দর্শন করে, প্রসাদ নিল। আমি আরও কয়েকটা ছবি নিলাম। এরপর আমরা তিনজন মনের আনন্দে অনেকটা করে আমসত্ত্ব খেলাম। এবার ওঠার পালা। একটা হৃষ্টপুষ্ট ছেলে এসে আমায় বললো, তার একটা ছবি তুলে দিতে। মন্দিরের অনেক ছবি তোলা হয়েছে বলে, তাকে আশ্রমের কাছে দাঁড়াতে বললাম। সে কিন্তু মন্দিরের কাছে দাঁড়িয়েই, ছবি তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করলো। কথা বলে বোঝা গেল যে, সে মন্দিরের কেয়ারটেকার মতো। নাম, “রাই সিং”। সে আমাকে একটু অপেক্ষা করতে বলে, পোষাক বদলে আসলো। গায়ের কোটটা অনেক জায়গায় তালি দেওয়া। এবার সে আমায় বললো, আমার গায়ের হলুদ রঙের গেঞ্জিটা তাকে দিতে। বললাম, ছবি তুললে কিছু বোঝা যাবে না। ছেঁড়া জামা ছবিতে উঠবেও না, বোঝাও যাবে না। একটা ছবি নিলাম। তার অনুরোধে ছবির একটা কপি তাকে পাঠিয়ে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে, তার ঠিকানা নিয়ে, ফিরবার পথ ধরলাম। একটু এগিয়েই আমার হাতের লাঠিটা আমায় ত্যাগ করে, নীচে যমুনায় চলে যাচ্ছিল। ওটাকে ধরে আবার আমার সঙ্গে নিয়ে চললাম। মাধব ও দিলীপ অনেক এগিয়ে গেছে। আমি বেশ ধীরে সুস্থে পথ চলছি। বেশ বুঝতে পারছি, চেষ্টা করলে আজই সায়নাচট্টি ফেরা সম্ভব হবে। আর এও বুঝতে পারছি, আজ যাওয়া আসা নিয়ে চল্লিশ-বিয়াল্লিশ কিলোমিটার পথ হাঁটতে বললেও, ওরা দু’জনের কেউই আজ আপত্তি করবে না।

আমার এখন একটাই ভাবনা, আগামীকাল ফেরার বাস পাওয়া যাবে তো? কল্যানদা যদি বাসটা আবার নিয়ে আসে, তো খুব ভাল হয়। হাঁটতে হাঁটতে যখন একসময়, সেই ভুল করে যমুনোত্রী মন্দির ভাবা, মন্দিরটার কাছে এলাম, তখন দেখি, একদল স্ত্রী ও পুরুষ, সঙ্গে বাচ্চা নিয়ে আসছে। ওরা যমুনোত্রী যাবে। আরও অনেকটা পথ হাঁটার পর, আর একজনের সাথে দেখা হ’ল। সে আমার কাছে একটা সিগারেট চাইলো। তাকে একটা সিগারেট দিয়ে পকেট থেকে দেশলাই বার করে দেবার আগেই, সে সিগারেটটা ছিঁড়ে ফেলে, মশলাটা খৈনির মতো হাতে পিষে, মুখে ফেলে দিল। একসময় জানকী চটির সেই দোকানে এসে হাজির হলাম। মাধব ও দিলীপ দোকানে বসেই ছিল। আমাদের খাবার তৈরিই ছিল, তাই অহেতুক সময় নষ্ট না করে, ডাল আর রুটি খেয়ে আবার নিজেদের চলার পথ ধরলাম। ওদের এবার একটু তাড়াতাড়ি হাঁটতে বলে বললাম, আজই সম্ভব হলে সায়নাচট্টি ফিরে যাব। এবার উতরাই-এর পথই বেশি, কাজেই হাঁটার কষ্ট অনেক কম। কিন্তু মাধবের আবার এই এক রোগ, ওপরে ওঠার সময় কিছু হয় না বটে, কিন্তু নীচে নামতে হলেই ওর হাঁটুর ব্যথা শুরু হয়। হাঁটতে হাঁটতে সেই পুরানো পথ ধরেই একসময় ফুলচটি এসে পৌঁছলাম। বেশ বুঝতে পারছি যে, যে কারণেই হোক, আজ কিন্তু আমাদের হাঁটার গতিবেগ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। শেষ পর্যন্ত সেই পুরানো একঘেয়ে পথ ধরে, একসময় আমরা এঁকেবেঁকে হনুমান চটির সেই দোকানে ঢুকে, চা, ঝুড়িভাজা আর মিষ্টি খেয়ে, বেঞ্চে শুয়ে পড়লাম। এখন সবে বিকেল, তার মানে হাতে অনেক সময় আছে। দোকানদারকে জানালাম যে, আমরা আজই   সায়নাচট্টি চলে যাব, কাজেই আজ রাতে আর এখানে থাকবো না।

হঠাৎই লক্ষ্য করলাম, আকাশের অবস্থা মোটেই ভাল নয়। আর সময় নষ্ট না করে উঠে পড়লাম। সঙ্গীদের বললাম, খুব জোরে বৃষ্টি আসবে, তাড়াতাড়ি পা চালাতে। দিলীপকে নিয়ে এখন আর কোন সমস্যা নেই। কিন্তু মাধবের হাঁটার গতি ক্রমশঃ কমে আসছে। দাঁড়িয়ে পড়লে দাঁড়িয়েই থাকতে হবে, কাজেই হাঁটতে শুরু করলাম। আমি আর দিলীপ একটু আগে আগে হাঁটছি, মাধব কিছুটা পিছনে। মাঝে মাঝেই পিছন ফিরে ওকে গতি বাড়াতে বলছি। বড় রাস্তা থেকে যেখানে ডানদিকে পায়ে হাঁটার সেই শর্টকাট পথটা নেমেছে, সেখানে পৌঁছে বুঝলাম, বৃষ্টি নামলো বলে। মাধবকে আরও তাড়াতড়ি নামতে বলে, আমি আর দিলীপ খুব জোরে পা চালিয়ে নামতে শুরু করলাম। এইভাবে যখন আমরা প্রায় নেমে এসেছি, তখন ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি শুরু হ’ল। বৃষ্টির ভয়ে মাধবও দেখি তার পায়ের ব্যথা ভুলে, আমাদের ধরে ফেললো। আমরা এবার ছুটতে শুরু করলাম। এইভাবে আমরা যখন প্রায় ট্রাভেলার্স লজের সামনে এসে পৌছলাম, তখন বেশ বড় বড় ফোঁটার বৃষ্টি শুরু হ’ল। আমরা ছুটে ট্রাভেলার্স লজে গিয়ে ঢুকলাম। এবার শুরু হ’ল প্রচন্ড শিলাবৃষ্টি। আমাদের দেখে তো কেয়ারটেকার অবাক। সে জিজ্ঞাসা করলো, এত তাড়াতাড়ি আমরা কিভাবে ফিরে আসলাম? সে আমাদের ভাগ্যবান আখ্যা দিয়ে বললো, দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টির পর, আজই প্রথম বৃষ্টি নামলো। আমরা আমাদের মালপত্র নিয়ে আগের সেই ঘরটায় চলে এলাম। ঘরে ঢুকেই যে যার বিছানায় শুয়ে পড়লাম। এখন বেশ ঠান্ডা লাগছে। কম্বল চাপা দিয়ে আরাম করে শুয়ে থাকতে খুব ভাল লাগছে। শুয়ে শুয়ে ঘরের ছাদে, জানালায়, একভাবে শিল পড়ার শব্দ শুনতে শুনতে ভাবছি, বৃষ্টি নামায় এরা এত খুশি, কিন্তু রাস্তায় যদি ধ্বস নামে তাহলে আমাদের কী হবে? আবার বাস বন্ধ হয়ে যাবে না তো? এই বৃষ্টিতেই সেই দোকানদারটা ছুটে এসে জিজ্ঞাসা করলো যে, সে আমাদের খাবার নিয়ে আসবে কী না। বললাম, একটু পরে আমরা নিজেরাই যাব। রাত ন’টা নাগাদ দোকানে গিয়ে রুটি, তরকারী খেয়ে, সমস্ত দাম মিটিয়ে ঘরে ফিরে এসে, মালপত্র গুছিয়ে রেখে শুয়ে পড়লাম।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s