অপাঙক্তেয় খেলা (স্মৃতির পাতা থেকে) { লেখাটি বাংলায় লিখুন , বই পোকার কলম ও উইপোকার কলম পত্রিকায় প্রকাশিত। }

ছোটবেলায় সাতগুটি, হুস্ হুস্, শিরগীজ, ইত্যাদি নানা খেলা নিয়ে বিকেলবেলাটা মেতে থাকতাম। গুলি খেলারও খুব নেশা ছিল, কিন্তু গুলি কেনার সামর্থ ছিল না। তাছাড়া বাবা গুলি খেলা পছন্দও করতেন না। মা’কে পটিয়ে পাটিয়ে নানাভাবে গুলি কিনতাম। আজ আমি মানুষ হয়েছি কী না জানি না, তবে আমি জোর গলায় একথা বলতে পারি, মা না থাকলে আমি বড়ই হতাম, মানুষ হতে পারতাম না। আমি আমার সুন্দর, নানা অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ ছেলেবেলাটা হারাতাম। আমার সব ভাইবোন আজ স্বীকার করবে কী না জানি না, তবে এটা সত্য যে, আমরা যে আজ বড় হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি, তার পিছনে মা’র প্রত্যক্ষ মদত, সহযোগীতা ও আত্মত্যাগ, মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল। আমরাই বোধহয় সেই স্নেহ ও আত্মত্যাগটুকু নিংড়ে নিয়ে বড় হয়ে তাঁকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান, আশা আকাঙ্খা থেকে বঞ্চিত করেছি, অবহেলা করেছি, মূল ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেদের মতো করে নতুন ধারায় বয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।

ভাবলে খুব কষ্ট হয় যে, আজকালকার একটা ছেলেও সাতগুটি, পিট্টু, শিরগীজ, রুমাল চোর খেলার নামই শোনে নি। আজ একটা মেয়েকেও আর এক্কা-দোক্কা খেলতে দেখি না। অথচ এই খেলাটা, আমরাও ছোটবেলায় বোন ও তার বান্ধবীদের সাথে খেলতাম। মাঠের অভাবে নাহয় ছেলেদের খেলা বন্ধ হয়েছে, কিন্তু মেয়েদের এই এক্কা-দোক্কা খেলতে বাধা কোথায়? এই খেলাটাতো একসময় মেয়েদের জাতীয় খেলা ছিল বলা যায়। খেলতে মাঠ বা স্টেডিয়ামও লাগে না, ঘরের মধ্যে, দালান, ছাদ, বা উঠনেও ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ বর্গফুট ফাঁকা জায়গা পেলেই খেলা যায়। এখন ক’টা ছেলে সাইকেলের রিম নিয়ে চাকা চালায়? চোখে তো পড়ে না। অথচ হাজার বাধা বিপত্তির মধ্যেও, এটা ছিল আমাদের একটা অতি প্রিয়, আনন্দের, ও আকর্ষণীয় খেলা। তবে কী আজকালকার ছেলেমেয়েরা সব সভ্য, আমরাই অসভ্য ছিলাম? কী জানি, রাস্তাঘাটে পোষাক, কথাবার্তা, আলাপ আলোচনা দেখলে ও শুনলে তো তা মনে হয় না।

আসলে আমরা, সাহেব বাবা-মা’রা আমাদের একটা বা দু’টো সন্তানকেও সাহেব ব মেমসাহেব বানাতে ব্যস্ত। নীগারদের ঐ সব নোংরা খেলা আমাদের সহ্য হবে কেন? তাই আমরা খেলার জন্য ভিডিও গেম বা মুঠো ফোন কিনে দিতে, নন্টে ফন্টে, হাঁদা ভোঁদা, বা বাঁটুল দি গ্রেট এর পরিবর্তে হ্যারি পটার, স্পাইডার ম্যান ইত্যাদি কিনে দিতে বেশি পছন্দ করি। যেখানে বাড়ির আশেপাশে খেলার মাঠই নেই, সেখানে তেপান্তরের মাঠের মতো অবাস্তব মাঠের প্রয়োজনীয়তা দেখি না। ঠাকুরমার সাথেই সম্পর্ক নেই, তো তার আবার ঝুলি!

সুবীর কুমার রায়।
০৪-০৫-২০১৬

Like

 

Like

 

Love

 

Haha

 

Wow

 

Sad

 

Angry

Comment

Advertisements

3 thoughts on “অপাঙক্তেয় খেলা (স্মৃতির পাতা থেকে) { লেখাটি বাংলায় লিখুন , বই পোকার কলম ও উইপোকার কলম পত্রিকায় প্রকাশিত। }

  1. পিট্টু খেলেছেন কখনও, গুলি অথবা লাট্টুর জিত্তাল? এগুলোতে সামান্য কিছু সরঞ্জাম লাগে। মনে পড়িয়ে দিয়ে ভাল করলেননা হয়তো। এখন, এই ভর দুপুরে, না ঘুমিয়ে ভাবব, সেই আমার লাল পিট্টুর বল্টা, যেটা মেহন্দি হেজের মধ্যে হারিয়ে গিয়েছিল, কে পেল সেটা!

    • সত্যিই তাই। এইসব খেলা যে জীবনে কত ঘন্টা আনন্দ দিয়েছে ভাবা যায় না। পিট্টুর লাল বলটা কে শেষপর্যন্ত পেল, zনতি পারলেন?

  2. বোধহয় ঘেসেড়াদের কেউ, যারা জাবের জন্য লনের ঘাস আর সকন্টক ঝোপ কেটে নিত একদা।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s