শঙ্কর

আজ হঠাৎ শঙ্করের কথা খুব মনে পড়ছে। আমি তখন প্রমোশন নিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরীতে একটা সরকারি ব্যাঙ্কে রুরাল ডেভেলপমেন্ট্ অফিসার, অর্থাৎ ফিল্ড অফিসার হিসাবে কাজে যোগ দিয়েছি। স্থানীয় মানুষের ভাষায় ফিল্ড অফিসার নয়, ফিলটার বাবু। শহরাঞ্চলের মতো এখানেও বিভিন্ন লোনের জন্য নিয়মমতো বীমা করাতে হতো। বীমা করানোর মতো লোনের সংখ্যা হাতেগোনা হলেও, আমি এখানে এসে কাজে যোগ দেওয়ার পরে দেখি, যে নিয়মমাফিক বীমা করার প্রয়োজনীয় লোনগুলো ইউনাইটেড ইন্ডিয়া ইন্সুরেন্স কোম্পানি থেকে বীমা করানো হতো, এবং শঙ্কর প্রসাদ দাস নামে একটি ছেলে এই লোনগুলো বীমা করার কাজটা করতো।

আমার থেকে বয়সে অনেকটাই ছোট এই শঙ্কর নামে শান্ত নম্র ভদ্র ও সদাহাস্যময় ছেলেটি, ওই বীমা কোম্পানির এজেন্ট ছিলো। এই জাতীয় লোনের কাজের সাথে আমার পূর্বে কোন পরিচয় না থাকায়, আমিও পূর্বের ট্র্যাডিশনই বজায় রাখা বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করলাম। দিন যায়, যদিও আমাদের শাখা থেকে তার বিশেষ কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা নিতান্তই ক্ষীণ, তবু সে তার নিজের স্বার্থে মাঝেমধ্যে ব্র্যাঞ্চে ঘুরে যেতো। আমি কাঁথীতে একটা লজে থাকতাম, এবং সেখান থেকেই অফিস যাতায়াত করতাম। তারও বাড়ি যেহেতু কাঁথীতেই ছিলো, তাই সন্ধ্যার পর তার সাথে মাঝেসাঝে দেখা হতো।

বছর শেষ হওয়ার মুখে সে একদিন আমার ব্র্যাঞ্চে এসে বেশ কয়েকটা ডায়েরি বার করে তার থেকে একটা বেশ বড়সড় সুন্দর ডায়েরি আমায় দিতে গেলো। লক্ষ্য করলাম, যে ডায়েরিগুলোর একটাও তাদের বীমা কোম্পানির নয়। অর্থাৎ ব্যবসায়িক স্বার্থে সে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের বিভিন্ন অফিসার বা ম্যানেজারকে খুশি করবার জন্য নিজের পকেটের পয়সায় ডায়েরিগুলো কিনেছে। আমার তখন লেখালেখির ঝোঁক বিশেষ ছিলো না। অনেকের মতো ডায়েরিতে দিনলিপি লেখার অভ্যাস আমার কোনকালেই ছিলো না, আজও নেই। সবথেকে বড় কথা, অনেকের মতো বিনা পয়সায় ফলিডল পেলেও খাই জাতীয় স্বভাব আমার কোন কালেই না থাকায়, তাকে বললাম, “ডায়েরি লেখার সময় ও অভ্যাস কোনটাই আমার না থাকায়, এটা আমার কাছে পড়ে থেকে নষ্ট হবে। তার থেকে বরং যার এটা কাজে লাগবে, বা যাকে দিলে তোমার ব্যবসার কিছু সুবিধা হবে, তাকে এটা দিও”। ও কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো, “আপনি এক অদ্ভুত প্রকৃতির মানুষ। আপনাদের অন্যান্য ব্র্যাঞ্চের অনেকেই কিন্তু আমাকে ভালো ডায়েরি নিয়ে গিয়ে দিয়ে আসার জন্য হুকুম তামিল করেছে”। যাদের নাম শুনলাম, তাদের অনেককেই চিনতাম, আজও চিনি বা পরিচয় আছে। কেউ আবার ব্যাঙ্ক থেকে অবসর নেওয়ার পরে, এখন সেই ব্যাঙ্কেরই অবসরপ্রাপ্ত অফিসারদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার ঠেকা নিয়ে গাঁয় মানে না আপনি মোড়ল হয়ে নেতা বনে বসেছে।

আমাকে আরও তিন-চারজন স্টাফের সাথে কাঁথী থেকে নড়বড়ে রাস্তায় আরও নড়বড়ে বাসে প্রায় চোদ্দ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নিত্য রসুলপুর ঘাটে যেতে হতো, সেখান থেকে রসুলপুরের নদী পাড় হয়ে আবার প্রায় চার কিলোমিটার পথ বাসে বা ভ্যান রিকশায় যেতে হতো। এমন অনেকদিন গেছে, যেদিন বাসের গোলমাল থাকায় অনেক টাকা ভাড়া দিয়ে আমাকে তিন-চারজন স্টাফকে সঙ্গে নিয়ে প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে রসুলপুর ঘাটে যেতে হয়েছে। আবার এরকমই অনেক দিনে তার সাথে দেখা হওয়ায়, আমাদের বিনা অনুরোধেই সে তার মোটর সাইকেলের পিছনে বসিয়ে আমাকে ও যেকোন একজন স্টাফকে তেল পুড়িয়ে যাতায়াতে আঠাশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রসুলপুর ঘাটে পৌঁছে দিয়ে এসেছে।

দিন যায়, ব্যাঙ্কের কাজে ভালমন্দ নানা বিচিত্র অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে দিন কাটতে থাকে। হঠাৎ একদিন একজন ঋণগ্রহীতা কাগজে মোড়া কি একটা জিনিস নিয়ে এসে, মোড়ক থেকে বার করে আমার টেবিলে রাখলো। চুনমাখা গয়না পরা লোমশ কি একটা পদার্থ দেখে, তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, এটা কি?

“শুয়োরের কান বাবু, শুয়োরটা মরে গেল, তাই কানটা কেটে নিয়ে এলাম। আপনি যা ব্যবস্থা করার করেন”। 

শুয়োরের লোন দেওয়ার সময় বীমা করাতে হয়। বীমা কোম্পানি থেকে প্রতিটা শুয়োরের কানে একটা করে ট্যাগ পাঞ্চ করে লাগিয়ে দিয়ে যায়। কোন কারণে শুয়োর মরে গেলে, ব্যাঙ্কের মাধ্যমে ওই ট্যাগ সমেত দরখাস্ত করে ক্ষতিপুরণ চাইতে হয়। গরু পালনের মতো শুয়োর পালনের জন্যও আমাকে লোন দিতে হয়েছে, তাই আমার মতো শুয়োর বিশেষজ্ঞ একজন দক্ষ ফিলটারবাবুর, শুয়োরের জীবনচক্র সম্বন্ধে হাতের তালুর মতো পরিষ্কার ধারণা থাকা অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। একটা শুয়োর কত বছর বয়সে বাচ্চা দেয়, এক একবারে কতগুলো বাচ্চা হয়, কতদিন অন্তর শুয়োরের বাচ্চা হয়, বাচ্চা কত বড় হলে কেটে খাবার উপযুক্ত হয় বা বিক্রি করা লাভজনক হয়, ইত্যাদি ইত্যাদি, আমার কাছে জলের মতো পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

একটা কাগজে কানের ট্যাগটার নাম্বার লিখে রেখে, যদিও সেটা ঋণ গ্রহীতার লেজারের পাতায়ও লেখা আছে, কাটা কানটা একটা ছোট খামে ঢুকিয়ে, আঠা দিয়ে মুখ বন্ধ করে সেই খামটা আবার অপর একটা খামে রেখে, সেটার মুখও বন্ধ করে দিলাম। শাখার আর্মড গার্ড, নীমা তামাং কার্সিয়াং-এর বাসিন্দা। তার সাথে আমার বেশ মধুর সম্পর্ক। সে আমায় বললো, তাদের ধর্মে শুয়োর ছোঁয়া নিষিদ্ধ, তা নাহলে সে পোস্ট অফিসে গিয়ে বীমা কোম্পনিতে সেটা পাঠাবার ব্যবস্থা করে দিয়ে আসতো। অন্য কেউ এই উৎকৃষ্ট কাজটা করতে না চাওয়ায়, বাধ্য হয়ে খামটা তখনকার মতো আমার অফিস ব্যাগে পুরে রাখলাম।

পরের দিন থেকে শুয়োরের কানটা আমার সাথে আমার ব্যাগের ভিতর করে চোদ্দ কিলোমিটার বাস, তারপরে নদী পার হয়ে চার কিলোমিটার রাস্তা ভ্যান রিকশায় যাতায়াত শুরু করলো। কানটাকে যথাস্থানে আর পাঠানোর সময় করে উঠতে পারি না। শেষে একদিন সম্ভবত কানের দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে, অফিস আসার পথে কান সমেত ব্যগটা আমায় না জানিয়ে আমায় ছেড়ে যেদিকে দুচোখ যায় চলে গেল। মহা ঝামেলায় পড়লাম। আবেদন পত্রের সাথে ট্যাগ সমেত কান জমা না দিলে তো ক্ষতিপুরণ পাওয়া যাবে না। ব্যাগ ফিরৎ পাওয়ার আশায় ও কি করা যায় ভাবতে ভাবতেই, আরও কয়েকটা দিন কেটে গেল।

বীমা কোম্পানির এজেন্ট, এই শঙ্করের সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক থাকায় তাকে সমস্ত ঘটনাটা খুলে বললাম। সে আমাকে পরামর্শ দিল, যে আমি যেন ব্যাঙ্কের প্যাডে ঋণ গ্রহীতার নাম, ট্যাগ নম্বর উল্লেখ করে, আমার কাছ থেকে ট্যাগটা হারিয়ে গেছে জানিয়ে ইনসুরেন্স কোম্পানিকে একটা চিঠি লিখি। যেহেতু আজ পর্যন্ত কোন ক্লেম এই শাখা থেকে করা হয়নি, তাই তারা ক্ষতিপুরণের টাকা দিয়ে দিতেও পারে। তাই করা হলো, এবং শেষপর্যন্ত টাকা পাওয়াও গেল। টাকা না পাওয়া গেলে আমার পকেট থেকেই টাকাটা গুনাগার দিতে হতো।

সেবার নির্বাচনের সময় আরও অনেকের মতো আমারও ভোটে ডিউটি পড়লো। বিদেশ বিভুঁইয়ে ভোটের ডিউটি দিতে যাওয়ার আমার আদৌ ইচ্ছা ছিলো না। কোনভাবেই যখন ভোটের ডিউটির জাল থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারলাম না, তখন এই শঙ্করই এগিয়ে এসে আমাকে চিন্তা করতে বারণ করে জানালো, যে তার বাবা কাঁথী এস.ডি.ও. অফিসে কাজ করেন, কাজেই সে তার বাবাকে দিয়ে একটা কিছু ব্যবস্থা করবে। বাস্তবে সে অবশ্য কোন ব্যবস্থা করতে পারেনি, এবং ঘটনাচক্রে আমাকে সেবার ভোটের ডিউটিতেও যেতে হয়নি, কাজেই সেকথা এখানে নিষ্প্রোয়জন, কিন্তু একমাত্র এই শঙ্করই কিন্তু নিজে থেকে এগিয়ে এসে সেদিন আমার জন্য চেষ্টা করেছিলো।

এরমধ্যে একদিন সে জানালো, যে সে তার বীমা কোম্পানিতে ডেভেলপমেন্ট্ অফিসার বা ওই জাতীয় কোন পোস্টে চাকরির সুযোগ পেয়েছে, কাজেই সে আমাকে একদিন খাওয়াতে চায়। আমাদের ব্র্যাঞ্চের আরও দুজন স্টাফও দলে ভিড়ে গেলো। দিন ঠিক করে ফেলে সে একদিন আমাদের জানালো, যে সে সব আয়োজন করে ফেলেছে, কাজেই আমরা যেন অতি অবশ্যই সাতটার মধ্যে অফিস থেকে ফিরে কাঁথীর একটা নির্দিষ্ট জায়গায় তার সাথে দেখা করি। তার অনুরোধ ফেলতে পারলাম না। সেদিনই আবার অফিস থেকে ফেরার পথে বাসের গোলমাল দেখা দেওয়ায় কাঁথী ফিরতে অনেক দেরি হয়ে গেলো। বাস থেকে নেমে দেখি, যে সে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। যাইহোক, তার সাথে গিয়ে শেষপর্যন্ত তার পছন্দের একটা ঝুপড়ির বেঞ্চে তো বসা হলো। সে নিজেও আমাদের সাথে নৈশভোজে আসন গ্রহণ করলো। শুনলাম এই দোকানের রান্না নাকি অতি উপাদেয়, সে মাঝেমধ্যে এই দোকানে পদধুলি দিয়ে থাকে।

অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের খাবার পরিবেশন করা হলো। ‘সীমার মাঝে, অসীম, তুমি বাজাও আপন সুর’। খাদ্য তালিকা সীমিত হলেও পরিমাণে অসীম, এবং তাতে বর্ণ গন্ধের সত্যিই লেশমাত্র অভাব নেই। হালকা বাসন্তী রঙের পোলাও, মুণ্ডহীন নাবালিকা আস্ত মুরগির রোস্ট, ও একটা চাটনি। ভালো খাবার খেতে ভালবাসলেও আমার খাওয়ার পরিমাণ চিরকালই বেশ কম, কাজেই এই পরিমাণ খাদ্য আমার তিনদিনের খাবার বুঝতে পেরে শঙ্করকে খাবার অনেকটা কমিয়ে নিতে বললাম। শঙ্কর দোকানদারকে পোলাও কমিয়ে দিতে বলে আমায় বললো, “মুরগির রোস্টটা এ বড় ভালো করে, তাছাড়া ওটা ভেঙে কমিয়ে দেওয়াও সম্ভব নয়। তাড়া নেই সময় নিয়ে খেয়ে নিন। শেষপর্যন্ত একান্তই না পারলে আমি নিয়ে নেবো”। বাকি দুজন চুপ করে থেকে, খাওয়া শুরু করলো। সত্যিই সুন্দর খেতে, কিন্তু অনেকটা খাওয়ার পর আমার গা গুলাতে লাগলো। শঙ্করকে পাত থেকে তুলে দিতে ইচ্ছা করলো না, আবার এত দাম দিয়ে কেনা খাবার নষ্ট করতেও বিবেকে লাগলো, তাই অনেক সময় নিয়ে বহু কষ্টে মোটামুটি খেয়ে খাওয়ার পরিসমাপ্তি ঘটালাম। শঙ্কর হাতমুখ ধুয়ে দোকানদারকে দাম মিটিয়ে ওরকমই দুটো আস্ত মুরগির রোস্ট প্যাকেটে করে নিয়ে আমাদের সাথে রাস্তায় পা রাখলো। আমার গা গুলাচ্ছিলো বলে উলটো দিকের একটা গুমটি থেকে পান কিনবার সময় সে পান খাবে কী না জিজ্ঞাসা করায় সে বললো, “পাগল, এখন কেউ পান খায়, তাহলে আর বাড়ি গিয়ে খেতে পারবো না”। অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, “রাতে তুমি আবার খাবে”? উত্তরে সে শুধু বললো, “রাতে আমি একটা আর বাবা একটা খাবে বলে দুটো এক্সট্রা মুরগির রোস্ট নিলাম দেখলেন না? গরম থাকতে থাকতে খেতে হবে নাহলে ভালো লাগবে না। এখন পান চিবোলে আর বাড়ি পৌঁছে খাওয়া যাবে না”।

জানি না বীমা কোম্পানিতে তার কাজের অতীত কর্মদক্ষতার সঙ্গে এই প্রমোশনের কোন সম্পর্ক আছে কী না,

থাকলেও এই ব্যাপারে আমার কোন অবদান নেই, কারণ আমার কাছ থেকে তার অতি সামান্যই ব্যবসা পাওয়ার সুযোগ ছিলো। অথচ অদ্ভুত ব্যাপার এই, যে আমি ছাড়া অন্য কোন শাখার অফিসার, যাদের কাছ থেকে সে যথেষ্ট ব্যবসা পায়, বা পাওয়ার সুযোগ আছে, তাদের একজনকেও কিন্তু এই আসরে চোখে পড়লো না। আসলে শুধু আর্থিক সুবিধা বা স্বার্থ নয়, ব্যবহার ও নিজেদের মধ্যে নিঃস্বার্থ সুসম্পর্ক দুজন মানুষকে হৃদয়ের অনেক কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারে।

এরও প্রায় সতেরো বছর পরে, তখন আমি কর্মসূত্রে এগরায় বাড়িভাড়া নিয়ে থাকি। একদিন স্ত্রীকে নিয়ে বিকালের দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে, বাসে এগরা যাওয়ার পথে কাঁথী থেকে বেশ কিছুটা পথ আগে নাচিন্দার কাছাকাছি কি একটা কারণে দেখি রাস্তার দুদিকে লাইন দিয়ে অজস্র বাস ট্রাক মোটর ইত্যাদি দাঁড়িয়ে আছে। একমাত্র বাইকগুলো দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির ফাঁকফোকর দিয়ে এঁকেবেঁকে কাটিয়ে যাতায়াত করছে। খোঁজ নিয়ে জানলাম এই অবস্থা দীর্ঘক্ষণ ধরে চলছে। বুঝলাম এগরা পৌঁছতে রাত হয়ে যাবে। সতেরো বছর আগে আমি কাঁথীতে বছর আড়াই-তিন থাকলেও, বিপদের সময় কিন্তু পরিচিত সবাইকে ছেড়ে শঙ্করের কথাই মনে পড়লো। তাকে ফোন করে সমস্ত ঘটনা জানাতে সে বললো, “আর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আমি বাইকে করে আপনাদের কাঁথীতে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করবো। রাতটা আমার বাড়ি কাটিয়ে আগামীকাল এগরা চলে যাবেন”। শেষপর্যন্ত তার আর প্রয়োজন হয়নি, কিছুক্ষণ পরেই গাড়ির চাকা  গড়াতে শুরু করলে তাকে ফোন করে জানিয়ে দিলাম। আমরাও সুষ্ঠুভাবে এগরা পৌঁছেছিলাম।

আজ প্রায় চৌঁত্রিশ বছর আগে তার সাথে আলাপ। চাক্ষুষ না হলেও, তার সাথে আজও মোবাইল বা হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ আছে। জেনেছিলাম, যে সে ওই বীমা কোম্পানির অ্যাডমিনিসট্রেটিভ অফিসার হয়েছে। সুসম্পর্কের জন্য শুধুমাত্র রক্তের বা স্বার্থের প্রয়োজন হয় না, আরও অনেক কিছু আছে, যা দুটো মানুষের সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে সক্ষম। ভালো থেকো শঙ্কর, সুস্থ থেকো, তোমাকে আমি আজও ভুলিনি।

 

সুবীর কুমার রায়

০২-০৯-২০২১

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s